খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৩ ডিসেম্বরঃ মুর্শিদাবাদের অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ আরও তপ্ত করে তুললেন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর ধারাবাহিক বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যে উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরাসরি রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে কড়া নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যে যদি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে তাঁকে ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’ করতে হবে। রাজ্য যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে রাজ্যপাল নিজে পদক্ষেপ করবেন বলেও বার্তা দিয়েছেন।
বেলডাঙায় ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করবেন বলে ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন জমি দিচ্ছে না, বরং বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গরাই নাকি ‘বাধা’ দিচ্ছেন এবং ভয় দেখাচ্ছেন। এই অভিযোগ সামনে এনে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন।
সাংবাদিকদের সামনে হুমায়ুনের মন্তব্য আরও বিতর্ক বাড়ায়। তিনি বলেন, “আগুন নিয়ে খেলবেন না। মুর্শিদাবাদের পুলিশ-প্রশাসনকে সতর্ক করছি।” এরপর এসডিপিওকে উদ্দেশ্য করে হুমকি, “হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে পাঙ্গা নেবেন না। যেদিন কলার ধরব, সেদিন তাকে বাঁচানোর লোক থাকবে না।” শুধু তাই নয়, প্রশাসনকে “আরএসএসের দালাল” বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
৬ ডিসেম্বর রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক “মুসলিমদের দখলে” থাকবে বলে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগ চরমে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের চিঠি রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “হুমায়ুন কবীর অত্যন্ত বিপজ্জনক খেলা খেলছেন। মুসলিম ভোট তোলার রাজনীতিতে তৃণমূল কতটা নামতে পারে, এটা তার বড় উদাহরণ।”
হুমকি, চাপ, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। রাজ্যপালের কঠোর নির্দেশে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল।





