বহরমপুর/কলকাতা, ৪ ডিসেম্বর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে বহরমপুরের সভাস্থলে পৌঁছন তিনি। কিন্তু প্রবেশদ্বারে পৌঁছতেই কানে আসে বিস্ফোরক খবর তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে। রাগে-ক্ষোভে বিধায়ক সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে এসে ঘোষণা করেন, “আগামীকালই দল থেকে ইস্তফা দেব। ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে আমার নতুন দলের ঘোষণা করব। ১৩৫ আসনে প্রার্থী দেব দেখি কে কী করে!”
বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দলের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই দলবিরোধী মন্তব্য করে আসছিলেন ভরতপুরের বিধায়ক। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি নিজ অবস্থান থেকে পিছাননি। এমনকী ক্ষমা চাইলেও ফের নতুন করে বিভাজনমূলক মন্তব্য করে দলীয় নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বাবরি মসজিদ ইস্যু। তৃণমূল যেখানে ৬ ডিসেম্বর ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে, সেখানে হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন যে তিনি সেদিন মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদের শিলান্যাস’ করবেন। প্রশাসন নাকি ওই মসজিদের জমি দিচ্ছে না এই অভিযোগ তুলে তিনি জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক দেন এবং এক পর্যায়ে স্থানীয় এসডিপিও-কে ‘কলার ধরে টেনে আনার’ হুমকিও দেন। দলের মতে, এই ধরনের বক্তব্য সরাসরি তৃণমূলের নীতি ও আদর্শের বিরোধী।
এদিকে বুধবারই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেন, হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যে অশান্তির সৃষ্টি হলে তিনি নিজে পদক্ষেপ নেবেন অর্থাৎ আগাম গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। রাজ্যপালের চিঠির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত আসে।
সাসপেন্ড হওয়ার খবর পাওয়ার পর হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, “২০১৫ সালেও আমাকে ছ’বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল কোনও নোটিশ ছাড়াই। এবারও একইভাবে সাসপেন্ড করা হলো।” তাঁর দাবি, তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়ে মুর্শিদাবাদ জেলাসহ ১৩৫টি আসনে লড়াই করবেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ধর্মীয় মেরুকরণ ও প্রশাসনিক সংঘাত কোনওটাই বরদাস্ত করা হবে না। হুমায়ুন কবীরের নতুন দল গঠনের হুঁশকি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





