কলকাতা, ৪ ডিসেম্বর: বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছিল, রাজ্যে প্রায় এক কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়বে। তবে সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, বাস্তব চিত্র সেই দাবির থেকে অনেক দূরে।
বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, মোট ৫২,০৮,৪৩১টি ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম এখনও অসংগৃহীত অবস্থায় রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে মৃত ভোটার ২৩ লক্ষ ৩৪ হাজার, খোঁজ পাওয়া যায়নি ৯ লক্ষ, এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন ১৮ লক্ষ। তবে কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়নি, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে কতজন হিন্দু ও কতজন সংখ্যালঘু এবং কতজন অনুপ্রবেশকারী হতে পারেন।
বিজেপির অনেক নেতার ধারণা ছিল, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটারের নাম বিপুল সংখ্যায় বাদ পড়বে। কিন্তু কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত সেই ধরনের কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি। সংখ্যালঘু এলাকায় অনেক ভোটারের খোঁজ না মিললেও, তা অতটা বড় সংখ্যা নয়। এর বিপরীতে সীমান্তবর্তী হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায়, বিশেষ করে মতুয়া ভোটারদের মধ্যে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
এসআইআর শুরুর আগে মতুয়াদের জন্য আশ্বাস থাকলেও এখন অনেকের অভিযোগ, সাংসদ শান্তনু ঠাকুর দেখা যাচ্ছেন না। রাজনৈতিক মহল বলছে, এই পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল হিন্দু শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা।
অসংগৃহীত ফর্মের মধ্যে তিনটি জেলায় সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি উত্তর ২৪ পরগনা– প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা– প্রায় ৬ লক্ষ, হাওড়া– প্রায় ৪ লক্ষ। এই তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির আগের দাবির তুলনায় এক কোটির সংখ্যা সত্যি নয়। নির্বাচনী বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া এখনও সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য উদ্বেগজনক নয়, বরং সীমান্তবর্তী হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সংশোধনী প্রক্রিয়ার পর্যবেক্ষণ বাড়ানো প্রয়োজন।





