শিলিগুড়ি, ৪ ডিসেম্বরঃ শহরের ব্যস্ত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে ফের কঠোর অবস্থান নিল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। বৃহস্পতিবার কোট মোড় থেকে শুরু করে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ট্রাফিক বিভাগের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এদিনের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ।
দুপুর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুটপাত দখল করে বহু ব্যবসায়ী দোকানপাট চালাচ্ছেন। এতে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনই যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ এদিন একে একে ফুটপাত দখল করে বসানো দোকানগুলিতে অভিযান চালায়। বেশ কয়েকজন ফুটপাত ব্যবসায়ীকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং অনিয়ম বন্ধ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একাধিক দোকান থেকে দাঁড়িপাল্লাসহ ব্যবসায়িক ব্যবহারের বিভিন্ন সামগ্রী আটক করে ট্রাফিক বিভাগ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক করা সামগ্রী সাত দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে। তবে শর্ত রক্ষা না করলে ভবিষ্যতে এই ধরনের সামগ্রী আর ফেরত দেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়।
এদিন শুধু ফুটপাত দখলই নয়, নো–পার্কিং জোনে বেআইনিভাবে পার্ক করা মোটরবাইকের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শহরে যানজটের অন্যতম বড় কারণ এই অনিয়মিত পার্কিং এমনটিই মনে করছে পুলিশ। ফলে অভিযানের সময় একাধিক বাইকের বিরুদ্ধে চালান কাটা হয়।
এবিষয়ে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং রাস্তা স্বাভাবিক রাখাই আমাদের লক্ষ্য। ফুটপাত দখল বা বেআইনি পার্কিং কোনও কিছুই বরদাস্ত করা হবে না। এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।”
ট্রাফিক বিভাগের এই পদক্ষেপে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বহুদিন ধরেই কোট মোড়-সহ শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছিলেন। পুলিশের এই পদক্ষেপে পথ চলা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।
শহরের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ফুটপাতকে পথচারীদের ব্যবহারের উপযোগী করতে ট্রাফিক পুলিশের এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।





