মালদা, ৪ ডিসেম্বর: ওয়াকফ সম্পত্তির নথি আপলোড নিয়ে ক্ষুব্ধ সংখ্যালঘু সংগঠন মিম। বৃহস্পতিবার মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বর জুড়ে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উত্তাল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মিমের মালদা জেলা সভাপতি রেজাউল করিম। তাঁর অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন তিনি বেঁচে থাকতে রাজ্যে ওয়াকফ হতে দেবেন না। আজ তিনি কথা রাখলেন না। আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। আমরা জানতে চাই তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। গোটা রাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘুরা আন্দোলন গড়ে তুলবেন।”
সংগঠনের দাবি, রাজ্য সরকার ২৭ তারিখ এক নোটিফিকেশন জারি করে জানায়, সব ওয়াকফ সম্পত্তির নথি, যার মধ্যে রয়েছে ‘উমিদ অ্যাপ’-এর তথ্যও, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপলোড করতে হবে। মিমের দাবি, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এত বিশাল কাজ করা অসম্ভব। কারণ মালদা জেলায় প্রায় ৪৫০টি রেজিস্টার্ড ওয়াকফ সম্পত্তি এবং হাজারেরও বেশি নন-রেজিস্টার্ড সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নথি আপলোড করা বাস্তবসম্মত নয় বলেই তাঁদের মত।
এই অবস্থায় সংগঠনের প্রতিনিধি দল জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে “প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের” অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
এই ইস্যুতে রাজনীতিও যে তপ্ত হবে তার ইঙ্গিত মিলেছে। বিজেপি বিধায়ক শ্রীরুপা মিত্র চৌধুরী বলেন, “সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ওয়াকফ নিয়ে কী করলেন, তা সংখ্যালঘুরাই এখন বুঝছেন।”
অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা কটাক্ষ, “২০২১-এ বাংলা দখলের স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন মিমকে ব্যবহার করে ভোট কাটার চেষ্টা করছে বিজেপি।”
এদিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মিমের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম, রাজ্য কমিটির সদস্য টনিক খানসহ অন্যান্য নেতৃত্ব। দুই পক্ষের মন্তব্যে স্পষ্ট, ওয়াকফ ইস্যুতে মালদার রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে।





