খবরিয়া ২৪ নিউজ ডেস্ক, ৪ ডিসেম্বরঃ রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বিএলও–দের বাড়তি কাজের চাপ নিয়ে যে ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে জমছিল, এবার সেই অভিযোগই সরাসরি স্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় বিচারপতিদের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা বিএলও–দের ওপর যে অস্বাভাবিক পরিমাণ চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা আদালত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
বর্তমানে দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে। বিভিন্ন রাজ্যের বিএলও–রা অভিযোগ জানিয়েছেন, ফর্ম সংগ্রহ, যাচাই, বাড়িতে বাড়িতে সমীক্ষা থেকে শুরু করে ডিজিটাইজেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রায় সবটাই তাঁদের ওপর বর্তেছে। বিশেষ করে ডিজিটাইজেশনের সময় বিএলও–দের বহু জায়গায় রাতদিন বিরামহীনভাবে কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি কয়েকটি রাজ্যে অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে বিএলও আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে আদালতে জানানো হয়। মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি তোলাও হয়।
এই সমস্ত অভিযোগই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের সামনে তুলে ধরা হয়। শুনানি চলাকালীন আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, বিএলও–দের অতিরিক্ত দায়িত্বের অভিযোগ সত্যি। তাই রাজ্য সরকার চাইলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করতে পারে। এতে বিএলও–দের কাজের চাপ কমবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটির মানও উন্নত হবে।
আদালত আরও জানিয়েছে, কোনও বিএলও যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান, তবে তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন। তবে কাউকে দায়িত্ব থেকে সরানোর আগে তাঁর স্থলে বিকল্প কর্মী নিয়োগ করতে হবে, যাতে নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
বিএলও–দের আত্মহত্যা এবং ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করে আদালত জানায়, ক্ষতিপূরণের দাবি সংক্রান্ত আবেদন পরে জমা দেওয়া হলেও আদালত তা বিবেচনা করবে। আদালতের এই পর্যালোচনা রাজ্যের প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন উভয়ের ওপরই নতুন করে দায়িত্ববোধ চাপিয়ে দিল।





