দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৭ ডিসেম্বরঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি থানার বিদিরা এলাকায় এক মহিলাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হন ওই মহিলা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দোকানে যেতে তাঁর বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাড়ির লোকজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাড়ি থেকে অল্প দূরেই মহিলাকে পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, তাঁকে জোর করে একটি নির্জন বাগানের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতেই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বাগানের ভিতরে সন্দেহজনকভাবে পড়ে থাকা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নোদাখালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া দেহটি অর্ধনগ্ন অবস্থায় ছিল এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এই ঘটনার পর বিদিরা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে অসুরক্ষার অনুভূতি আরও বেড়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে যৌন নির্যাতন ও খুনের সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। বাগানের পাশের একটি বাড়ি সিল করে দিয়েছে পুলিশ এবং এলাকার এক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনওরকম উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে। আতঙ্কিত স্থানীয়দের দাবি, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
এই নৃশংস ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠছে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে। প্রতিদিনের মতো দোকানে যাওয়া এই সাধারণ কাজটাও যে বিপদের কারণ হতে পারে, সেই আশঙ্কা ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মনে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, নির্যাতিত মহিলার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।





