নয়াদিল্লী, ১০ অক্টোবরঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে বিতর্কের আঁচ এ বার রাজধানীর রাজপথে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শনিবার যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ । সেই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি তুঙ্গে। মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন বাতিল, রাস্তায় ব্যারিকেড প্রতিবাদ ঠেকানোর এই পদক্ষেপে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে গণপরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্নেই এ বার কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
দিল্লি রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘একনায়ক’ বলে আক্রমণ করেছেন সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর অভিযোগ, যুবসমাজের প্রতিবাদকে ভয় পেয়েই রাজধানীর মেট্রো, রাস্তাঘাট-সহ বিভিন্ন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, দেশের যুবকদের ভয় পেলে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার অর্থ কী? জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে কেন্দ্রের এই অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিজিতের দাবি, সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার প্রয়োগ করেই যন্তর মন্তরে পৌঁছবেন আন্দোলনকারীরা।
নিরাপত্তার নামে জনদুর্ভোগ?
বিক্ষোভের আশঙ্কায় দিল্লিতে পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা জানা গিয়েছে। যন্তর মন্তর-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড, নজরদারি এবং জমায়েতের উপর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ আবেদনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তার যুক্তিতে গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ায় নিত্যযাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
‘সব কিছু স্তব্ধ করা যায় না’
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা বজায় রাখার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, প্রবীণ নাগরিক প্রতিদিন যাঁরা দিল্লিতে যাতায়াত করেন, তাঁদের দুর্ভোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে জানায় আদালত।
মেট্রোর পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু ঢালাও ভাবে স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানায় বেঞ্চ। এর পরে পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার বদলে নিয়ন্ত্রিত ভাবে চালানোর আশ্বাস দেয় কেন্দ্রের আইনজীবী পক্ষ।
তবে আদালতের নির্দেশের পরেও পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় নির্দেশ কার্যকর করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এক দিকে প্রতিবাদের অধিকার, অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি দুইয়ের টানাপড়েনে শনিবারের দিল্লি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে।





