কলকাতা, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ ফুটপাথটা পথচারীদের জন্য। অথচ সেখানে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি, কোথাও আবার ইট-বালি-সুরকির স্তূপ। রাস্তার বদলে হাঁটতে হচ্ছে নির্মাণসামগ্রীর পাশ দিয়ে। মঙ্গলবার সকালে সল্টলেকে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের আচমকা পরিদর্শনে এমনই ছবি ধরা পড়ল। আর তা দেখেই চটে গেলেন মন্ত্রী। ঘটনাস্থল থেকেই দিলেন কড়া নির্দেশ মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই ফুটপাথ সম্পূর্ণ খালি করতে হবে।
শহরের নাগরিক পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং ফুটপাথের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সম্প্রতি সকালবেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন পুরমন্ত্রী। কখনও বাজার, কখনও আবাসিক এলাকা আচমকা পৌঁছে গিয়ে খতিয়ে দেখছেন জঞ্জাল, দখলদারি কিংবা বেআইনি পার্কিংয়ের পরিস্থিতি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, শহরের রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে কোনও কাজই চলবে না।
মঙ্গলবার সল্টলেকে গিয়ে প্রথমেই তাঁর নজরে পড়ে ফুটপাথের উপর দাঁড় করানো একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি। খানিক এগোতেই আরও বড় সমস্যা। নির্মীয়মাণ একটি বাড়ির ইট, বালি, চুন ও সুরকি কার্যত পুরো ফুটপাথ জুড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচলের জায়গাটুকুও কার্যত বন্ধ।
এ দৃশ্য দেখেই আর চুপ থাকেননি অগ্নিমিত্রা। ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তিকে ডেকে জানতে চান, কেন ফুটপাথ আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর প্রশ্নের মুখে ওই ব্যক্তি সরিয়ে দেওয়ার কথা বললেও তাতে মন্ত্রীর ক্ষোভ আরও বাড়ে।
কড়া গলায় অগ্নিমিত্রাকে বলতে শোনা যায়, “আজ আমি এসেছি বলে সরাবেন? এটা ফুটপাথ। সব জিনিসপত্র ফেলে রেখে কাজ করা যে উচিত নয়, তা জানেন না?”
এর পরেই আসে সময়সীমা। মন্ত্রীর নির্দেশ, মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই ফুটপাথ থেকে সমস্ত নির্মাণসামগ্রী ও বর্জ্য সরাতে হবে। শুধু নির্দেশ দিয়েই থামেননি তিনি। কাজটি আদৌ হয়েছে কি না, নিজে তার রিপোর্ট দেখবেন বলেও জানিয়ে দেন।
পুরমন্ত্রীর এই আচমকা পরিদর্শন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে ঘটনার মধ্যে দিয়ে আরও এক বার সামনে এল শহরের ফুটপাথ দখল এবং বেআইনি পার্কিংয়ের পুরনো সমস্যা। প্রশাসনের নির্দেশ সত্ত্বেও যদি সেই ছবি বদলাতে না চায়, তা হলে এবার নজরদারির পাশাপাশি কড়া পদক্ষেপের পথেই হাঁটতে চাইছে পুরসভা।
অগ্নিমিত্রার বার্তাটিও তাই স্পষ্ট ফুটপাথ মানুষের হাঁটার জায়গা, নির্মাণসামগ্রী রাখার গুদাম নয়। আর রাস্তা ব্যক্তিগত পার্কিংয়ের জায়গাও নয়।





