মুর্শিদাবাদ, ১৫ সেপ্টেম্বর: জল্পনার অবসান। রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত দলের পরীক্ষিত সংগঠক, রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকারের উপরেই ভরসা রাখল বিজেপি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা নাগাদ নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামে প্রত্যাশিত ভাবেই নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করা হয়েছে। আর রেজিনগরে সংগঠনের পুরনো সৈনিক শাখারভ।
রেজিনগর আসনটি ফাঁকা হয়েছিল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে। আগামী ৬ অক্টোবর সেখানে উপনির্বাচন। ফলে মুর্শিদাবাদের এই আসনে ইতিমধ্যেই জমে উঠেছে বহু-মুখী লড়াই। কংগ্রেস, তৃণমূলের দুই শিবির, আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, বামেদের সিপিএম ও আরএসপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আগেই। এ বার সেই তালিকায় যোগ হল বিজেপি।
শাখারভের রাজনৈতিক পরিচয় অবশ্য শুধু প্রার্থী ঘোষণার পরের নয়। বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে আসা। পরে বিজেপির সংগঠনে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হন। রাজ্য সম্পাদক হওয়ার আগে দীর্ঘদিন বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ছিলেন। সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকার উপরেই ভরসা রেখেছিল দল। এ বার সেই সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকেই রেজিনগরের ভোটযুদ্ধে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি।
প্রার্থী ঘোষণার পর শাখারভের বার্তা, রেজিনগরের নির্বাচন কোনও ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক লড়াই নয়। তাঁর কথায়, ভোট হবে উন্নয়নের প্রশ্নে। তিনি বলেন, “শুধু আমি প্রার্থী নই, রেজিনগরের প্রতিটি কার্যকর্তাই বিজেপির প্রার্থী।”
কী নিয়ে প্রচারে যাবেন, তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন শাখারভ। তাঁর বক্তব্য, রেজিনগরে ভাল স্কুল-কলেজের প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের বাইরে যেতে হয়। যাতায়াতের সমস্যা মেটাতে ভাগীরথীর উপর স্থায়ী সেতুর দাবি তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতিকেও প্রচারের অন্যতম ইস্যু করতে চান বিজেপি প্রার্থী। দলীয় কর্মীরা ইতিমধ্যেই প্রচারে নেমে পড়েছেন বলে দাবি তাঁর।
শাখারভকে প্রার্থী করায় খুশি বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপিও। জেলা সভাপতি মলয় মহাজনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন সংগঠন সামলানো নেতাকে প্রার্থী করায় কর্মীরা উৎসাহিত। বুধবার শাখারভ মনোনয়ন জমা দেবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
তবে রেজিনগরের ভোটে শাখারভের পুরনো রাজনৈতিক অবস্থানও আলোচনায় আসছে। বিধানসভা ভোটের সময় হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার প্রতিবাদে বহরমপুরে রামমন্দিরের ভূমিপুজো করেছিলেন শাখারভ। সেই পর্বের পর এ বার সরাসরি হুমায়ুনের ছেড়ে যাওয়া আসন দখলের লড়াইয়ে নামছেন তিনি। ফলে রেজিনগরে উন্নয়নের ইস্যুর পাশাপাশি সেই পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতের ছায়াও ভোটের ময়দানে কতটা পড়ে, সেটাই দেখার।





