নন্দীগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বর: ভোটের ময়দানে এবার শুধু প্রার্থী বদল নয়, আবেগের সমীকরণও সামনে আনতে চাইছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে পদ্মশিবিরের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রয়াত প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবার তাঁর সমর্থনে আয়োজিত ‘বিজয় সংকল্প সভা’য় গিয়ে চন্দ্রনাথের হত্যার প্রসঙ্গ তুলে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলিতে খুন হন চন্দ্রনাথ। সেই ঘটনার তদন্ত বর্তমানে সিবিআইয়ের হাতে। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বার সেই পরিবারেরই সদস্যকে নন্দীগ্রামের ভোটের ময়দানে নামিয়ে বিজেপি যে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি আবেগের জায়গাটিও ছুঁতে চাইছে, তা স্পষ্ট।
সভায় চন্দ্রনাথের হত্যার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, বিরোধী দলনেতাকে সহযোগিতা করার কারণেই তাঁকে খুন হতে হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তাঁর কথায়, পরিবারের পাশে থাকা এবং ওই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার।
তবে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনকে শুধু অতীতের স্মৃতিতে আটকে রাখতে চাইছেন না মুখ্যমন্ত্রী। গত চার মাসে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন কাজের খতিয়ান তুলে ধরে এলাকার উন্নয়ন নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক সহায়তা, বাড়ি নির্মাণে বরাদ্দ, হরিপুরে ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন এবং নন্দীগ্রাম-হলদিয়া সেতুর সমীক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে উন্নয়নের বার্তা দেন শুভেন্দু।
নন্দীগ্রামের দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামের অবহেলিত পরিবারগুলির হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথার উপর ছাদ দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর।
এর পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে নিশানা করে ভোটের ব্যবধান নিয়েও বড় দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১-এর নন্দীগ্রাম ভোটের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, এবারও এমন ব্যবধানে বিজেপি জিতবে, যা কেউ কল্পনা করতে পারবেন না।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ফলে এক দিকে চন্দ্রনাথের স্মৃতি, অন্য দিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং শুভেন্দুর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক প্রভাব এই তিনের সমীকরণেই নন্দীগ্রামের ভোটকে দেখতে চাইছে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত ‘ঘরের মানুষ’ হাসিরানি রথের প্রার্থীপদ কতটা ভোটে বদলে যায়, নজর থাকবে সেদিকেই।





