নন্দীগ্রাম, ১৫ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে নামার আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল আবেগের আবহ। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসি রানি রথকে প্রার্থী করে সেই আবেগকেই যেন রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে বিজেপি। মঙ্গলবার সেই হাসি রানি রথই বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিলেন। তার আগে নন্দীগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জানকীনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু হল তাঁর ভোটযাত্রা।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাসি রানি বললেন, দল তাঁকে প্রার্থী করলেও এই লড়াই তাঁর একার নয়। পাশে রয়েছে দলের সংগঠন, কর্মী-সমর্থকেরা। নন্দীগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। নন্দীগ্রাম মানেই শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান অধ্যায়। সেই কেন্দ্রেই এ বার বিজেপির প্রার্থী তাঁর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথের মা। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যেই যে আবেগ ও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেও।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পাশে শুভেন্দু ছিলেন বলে দাবি হাসি রানি রথের। তাঁর কথায়, ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই শুভেন্দু তাঁর পরিবারের অভিভাবকের মতো। তাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকেই নিজের কাছে ‘সবচেয়ে বড় পাওনা’ বলে মনে করছেন তিনি।
নন্দীগ্রামের উন্নয়ন নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, এলাকার বহু প্রত্যাশা ইতিমধ্যেই পূরণ করেছেন নন্দীগ্রামের দু’বারের বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বাকি কাজ শেষ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে হাসি রানি বলেছেন, নন্দীগ্রামকে খুশি করতে তিনি ‘শেষ রক্তবিন্দু’ পর্যন্ত চেষ্টা করবেন।
তবে আবেগের পাশাপাশি রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্যও। জয়ী হওয়ার সম্ভাব্য ব্যবধান নিয়ে সরাসরি সংখ্যা না বললেও দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাসি রানি। বিজেপির লক্ষ্য নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় সেই বার্তাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রাজনীতিতে হাসি রানি অবশ্য একেবারে নতুন মুখ নন। ১৯৯৮ সাল থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে রয়েছেন তিনি। দু’বার পঞ্চায়েত সদস্য এবং তিন বার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির লড়াই শুধু একটি আসন ধরে রাখার লড়াই নয়। চন্দ্রনাথের স্মৃতি, শুভেন্দুর রাজনৈতিক প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের সংগঠনের অভিজ্ঞতা এই তিনকে সঙ্গে নিয়েই এ বার ভোটের ময়দানে হাসি রানি রথ। এখন দেখার, আবেগের এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।





