দিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই কি বাড়ছে মতপার্থক্য? ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী। সেই প্রতিবেদন সামনে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর।
এই আবহেই জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর কটাক্ষ, “জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো।” একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা এসআইআর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিশনের দুই সদস্য আপত্তি নথিবদ্ধ করেছিলেন। নতুন ভোটারের নাম সংযোজন, ভোটার বাদ দেওয়া এবং বাদ পড়া নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ভোটার সংক্রান্ত তথ্যের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা দিল্লিতে কেন্দ্রীভূত করা নিয়েও প্রশ্ন তোলার কথা জানানো হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই রিপোর্টের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারই অংশ। কমিশনের বক্তব্য, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত হয়। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে যে ‘ভিন্নমত’-এর ছবি তৈরি হয়েছে, তাকে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অচলাবস্থা হিসেবে দেখছে না।
অন্য দিকে, বিরোধী দলগুলি এই রিপোর্টকে সামনে রেখে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ একাধিক বিরোধী দলের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে চলা বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কমিশনের অন্দরমহলের এই মতপার্থক্যের অভিযোগ। এক দিকে দুই কমিশনারের নথিভুক্ত আপত্তির দাবি, অন্য দিকে কমিশনের ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত বা সংখ্যাগরিষ্ঠ’ থাকার বক্তব্য এই দুইয়ের মাঝেই এখন জাতীয় রাজনীতির নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে।





