মালদা, ৮ জানুয়ারিঃ কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি যুবতীকে আটক করল রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)। তাদের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে এক ভারতীয় যুবককেও। বুধবার গভীর রাতে শিলচর–কোয়েম্বাটুর এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনাটি ঘটে। পরে ধৃত তিনজনকে মালদা টাউন জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আরপিএফ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় টহল দেওয়ার সময় জেনারেল কামরায় তিন যাত্রীর কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য করেন আরপিএফ কর্মীরা। সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় আরপিএফ তিনজনকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ধৃতদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয়।
ধৃত বাংলাদেশি দুই যুবতীর নাম সাইমা আক্তার ও সৌমিয়া আক্তার। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ এলাকায়। অপরদিকে ধৃত ভারতীয় যুবকের নাম ইমরান হোসেন। তাঁর বাড়ি আসামের বোরো কালা থানার কোচার বাজারপাড়া এলাকায়।
জিআরপি সূত্রে জানা গেছে, কাজের সন্ধানে বাংলাদেশি ওই দুই যুবতী অবৈধভাবে ভারত সীমান্ত পার হয়ে সিলেট হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা গুহাটিতে এসে আগে থেকেই পরিচিত ভারতীয় যুবক ইমরান হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনজন একসঙ্গে বেঙ্গালুরু যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিলচর–কোয়েম্বাটুর এক্সপ্রেস ট্রেনের জেনারেল কামরায় ওঠেন।
ট্রেনটি কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর আরপিএফের নিয়মিত টহলের সময়ই ধরা পড়ে যায় গোটা বিষয়টি। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারায় এবং কথাবার্তায় অসামঞ্জস্য থাকায় আরপিএফ তাঁদের আটক করে মালদা টাউন জিআরপির হাতে তুলে দেয়।
বৃহস্পতিবার মালদা টাউন জিআরপি ধৃত তিনজনকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করে এবং সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলপথে নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে জিআরপি।





