কলকাতা, ৫ আগস্টঃ ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা টুলু মণ্ডল। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে গা-ঢাকা দিয়েছেন। সেই অবস্থাতেই বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আইনি রক্ষাকবচের আবেদন জানালেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি দায়ের হয়েছে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর।
একসময় দিনমজুরি আর সন্ধ্যায় গৃহশিক্ষকতা করেই সংসার চলত টুলু মণ্ডলের। পরে পাথর বোঝাই ট্রাকে মাল চাপানোর ইজারা নিয়ে ব্যবসায় নামেন। ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কেনেন এবং পাথর পরিবহণের ব্যবসায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন। এরপর রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহম্মদবাজারের পাথর শিল্পকে কেন্দ্র করে তাঁর প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসারও বিস্তার ঘটে।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৬ সালে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পরই টুলুর আর্থিক উত্থান আরও দ্রুত হয়। সেই সময় থেকেই বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
গত ৩১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে টুলু মণ্ডলের সম্পত্তির একটি বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা, নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার, বিএমডব্লিউ ও অডি-সহ মোট ২৪২টি গাড়ি এবং ২১টি স্থাবর সম্পত্তি। এর মধ্যে সাতটি বাড়ি, একটি ফার্মহাউস, দুটি পেট্রল পাম্প, দুটি স্টোন ক্রাশার এবং প্রায় ৩০০ বিঘা জমি রয়েছে বলে দাবি সরকারের।
ইতিমধ্যেই টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাঁর একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখনও তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে পলাতক অবস্থায় করা রক্ষাকবচের আবেদন আদালতে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটাই এখন দেখার।





