কলকাতা, ১৭ মার্চ: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অবশেষে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়ির ঐতিহ্যবাহী ছোট অফিসঘর থেকেই ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি তিনটি আসন দার্জিলিং পাহাড়ে মিত্রদল বিজিপিএম-কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের মতো এবারও একই ঘর থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ঐতিহ্য বজায় রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সি।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মমতা বলেন, “চিরকাল আমরা এই ঘর থেকে প্রার্থী বলি। সেই ট্র্যাডিশন বজায় রেখেছি। বাংলার মানুষকে আমার প্রণাম।” একইসঙ্গে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপরই রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান ভারতীয় জনতা পার্টি-কে। তাঁর কথায়, “এত ভয় পাচ্ছেন কেন? এজেন্সি দিয়ে কলকাঠি না নেড়ে, বাইরে থেকে লক্ষ লক্ষ লোক না এনে গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করুন।” পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাতেও কটাক্ষ করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, “এটা বাংলার অস্মিতার লড়াই। দিল্লি জিতবে না। মানুষের শক্তি আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ২২৬টিরও বেশি আসন জিতে ফের ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল।
প্রার্থী তালিকায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হয়েছে, তেমনই নতুন মুখকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। এক নজরে জেনে নিন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা…
• কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে পরেশ্চন্দ্র অধিকারী
• মাথাভাঙ্গা সাবলু বর্মন
• দিনহাটা উদয়ন গুহ
• রাজগঞ্জ স্বপ্না বর্মন
• তুফানগঞ্জ শিবশংকর পাল
• কোচবিহার উত্তর পার্থপ্রতিম রায়
• কোচবিহার দক্ষিণ অভিজিৎ দে ভৌমিক (হিপ্পি)
• সিতাই সঙ্গিতা রায় বসুনিয়া
• নাটাবাড়ি শৈলেন বর্মা
• শীতলকুচি হরিহর দাস
• আলিপুরদুয়ার সুমন কাঞ্জিলাল
• মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি শংকর মালাকার
• ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি রঞ্জন শীল শর্মা
• শিলিগুড়ি গৌতম দেব
• বালুরঘাট অর্পিতা ঘোষ
• রায়গঞ্জ কৃষ্ণ কল্যাণী
• কুমারগ্রাম রাজীব তির্কি
• কালচিনি বীরেন্দ্র বারা ওরাওঁ
• ফালাকাটা সুভাষ রায়
• মাদারিহাট জয় প্রকাশ টোপ্পো
• ধূপগুড়ি নির্মল চন্দ্র রায়
• ময়নাগুড়ি রামমোহন রায়
• জলপাইগুড়ি কৃষ্ণ দাস
• মালবাজার বুলু চিক বরাইক
• নাগরাকাটা সঞ্জয় কুজুর
• ফাঁসিদেওয়া রীনা টোপ্পো এক্কা
• চাঁচল-মালদা: প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
• চোপড়া হামিদুল রহমান
• ইসলামপুর কানাইয়া লাল আগরওয়াল
• গোয়ালপোখর মহম্মদ গুলাম রব্বানী
• চাকুলিয়া মিনহাজুল আরফিন আজাদ
• করণদিঘি গৌতম পাল
• হেমতাবাদ সত্যজিত্ বর্মন
• কালিয়াগঞ্জ নীতাই বৈশ্য
• ইটাহার মোসারফ হোসেন
• কুশমণ্ডি রেখা রায়
• কুমারগঞ্জ তোরাফ হোসেন মণ্ডল
• বালুরঘাট অর্পিতা ঘোষ
• তপন চিন্তামণি বিহা
• গঙ্গারামপুর গৌতম দাস
• হরিরামপুর বিপ্লব মিত্র
• মালদা হবিবপুর অমল কিসকু
• গাজোল প্রসেনজিত্ দাস
• হরিশ্চন্দ্রপুর মহম্মদ মতেবুর রহমান
• মালতীপুর আব্দুর রহিম বক্সি
• রতুয়া সমর মুখোপাধ্যায়
• মানিকচক কবিতা মণ্ডল
• মালদা লিপিকা বর্মন ঘোষ
• ইংরেজবাজার আশিস কুণ্ডু
• মোথাবাড়ি মহম্মদ নজরুল ইসলাম
• সুজাপুর সাবিনা ইয়াসমিন
• বৈষ্ণবনগর চন্দনা সরকার
• হাবড়া থেকে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে টিকিট দিল তৃণমূল।
• ফরাক্কা আমিরুল ইসলাম
• সামসেরগঞ্জ নুর আলম
• সুতি ইমানি বিশ্বাস
• জঙ্গিপুর জাকির হোসেন
• রঘুনাথগঞ্জ জনাব আখরুজ্জামান
• সাগরদিঘি বায়রন বিশ্বাস
• লালগোলা আব্দুল আজিজ
• ভগবানগোলা রেয়াত হুসেন সরকার
• রানিনগর সৌমিক হুসেন
• মুর্শিদাবাদ সাওনি সিংহ রায়
• মানিকতলা শ্রেয়া পাণ্ডে
• চুঁচুড়া দেবাংশু ভট্টাচার্য
• বেচারাম মান্না সিঙ্গুর
• বেহালা পশ্চিম রত্না চট্টোপাধ্যায়
• বেলেঘাটা কুণাল ঘোষ
• সবং মানস ভুঁইয়া
• দমদম উত্তর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
• ভাঙড় শওকত মোল্লা
• সবচেয়ে চর্চিত লড়াই হতে চলেছে ভবানীপুর কেন্দ্রে, যেখানে নিজেই প্রার্থী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁর মুখোমুখি হতে পারেন বিরোধী শিবিরের শক্তিশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারী—যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে।
• মানিকতলা শশী পাঁজা
• নন্দীগ্রামে পবিত্র কর
দলের বার্তা স্পষ্ট,“ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই।” যাঁরা টিকিট পাননি, তাঁদেরও সংগঠনের কাজে যুক্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রার্থী তালিকায় আঞ্চলিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা এবং নতুনত্ব তিনটিরই সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছে তৃণমূল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে সংগঠন মজবুত করাই মূল লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই এখন চরমে। তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস যেমন তুঙ্গে, তেমনই বিরোধীরাও পাল্টা প্রস্তুতি শুরু করেছে। এখন নজর ভোটের ময়দানে কাদের কৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হয় সেটাই দেখার।





