মনিরুল হক, কোচবিহার: বিধানসভা ভোটের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরবঙ্গে সংগঠন শক্তিশালী করতে জোরদার কৌশল নিল তৃণমূল কংগ্রেস। আসন্ন ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন-কে -কে সামনে রেখে মঙ্গলবার কোচবিহার জেলার ৯টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে শাসকদল। আর এই তালিকায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে, তেমনই একাধিক কেন্দ্রে নতুন মুখ এনে চমক দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে শিবশংকর পাল-এর নাম। বাংলার প্রাক্তন এই পেসারকে প্রার্থী করা হয়েছে তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। ক্রীড়াজগতের পরিচিত মুখকে রাজনৈতিক ময়দানে নামিয়ে ভোটে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে চাইছে দল মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অন্যদিকে দিনহাটা কেন্দ্রে ভরসা রাখা হয়েছে হেভিওয়েট নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহ-র উপর। পাশাপাশি মেখলিগঞ্জ কেন্দ্রে ফের প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশচন্দ্র অধিকারী-কে। অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে এই গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল।
জেলার অন্যান্য আসনগুলিতেও উল্লেখযোগ্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সিতাই থেকে লড়ছেন সঙ্গীতা রায় বাসুনিয়া। কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায় এবং কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রে অভিজিৎ দে ভৌমিক(হিপ্পি)। মাথাভাঙ্গা-য় প্রার্থী হয়েছেন সাবলু বর্মন, শীতলকুচি-তে লড়ছেন হরিহর দাস এবং নাটাবাড়ি-তে প্রার্থী শৈলেন বর্মা।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরই আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বে। কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “জেলায় একটিও আসন ছাড়বে না তৃণমূল। ৯-এ ৯-ই আমাদের লক্ষ্য।” তাঁর দাবি, উন্নয়নমূলক কাজ ও জনসংযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় ভালো ফল করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ফলে এবারের ভোটে কোচবিহার তৃণমূলের কাছে ‘টার্গেট জেলা’। সেই কারণেই অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের মিশেলে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাঁদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে কোচবিহারে সংগঠন মজবুত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মুখ ভোটারদের আকর্ষণ করবে, আর অভিজ্ঞ নেতারা সংগঠনের ভিত শক্ত রাখবেন এই সমীকরণেই এগোচ্ছে তৃণমূল।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কোচবিহারে নির্বাচনী লড়াই কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন দেখার, এই কৌশল কতটা সফল হয় এবং তৃণমূল আদৌ বিজেপিকে শূন্য করতে পারে কিনা।





