দিনহাটা, ৫ অক্টোবরঃ দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর শহরের বাড়িতে ফিরেছিলেন। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হল গোবরাছড়া-নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা আজিজার রহমানকে। তাঁর বিরুদ্ধে বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ছিনতাই, অবৈধ জমায়েত এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানির মতো একাধিক পুরনো অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেই মামলাগুলির সূত্রেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সোমবার দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজিজার রহমান দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি দিনহাটা শহরের নিজের বাড়িতে থাকছিলেন বলে খবর পায় সাহেবগঞ্জ থানার নয়ারহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। রবিবার রাতে সেই বাড়িতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর রাতেই তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার সকালে তাঁকে দিনহাটা মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরনো মামলাগুলির নথি আদালতে পেশ করে পুলিশ। এরপরই বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের দাবি, আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ছিনতাই, বেআইনি ভাবে জমায়েত এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানির অভিযোগ। যদিও কোন মামলায় কী অভিযোগ রয়েছে এবং সেগুলির বর্তমান আইনি অবস্থান কী, তা তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় রাজনীতিতে আজিজার রহমানকে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত বলে দলীয় ও স্থানীয় সূত্রের দাবি। তিনি দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহের ঘনিষ্ঠ বলেও এলাকায় পরিচিত। তাঁর গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পুরনো মামলাগুলির নথি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশের পর আপাতত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে আজিজার রহমানকে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের।





