বীরভূম, ১৮ মে: একসময় শনিবার মানেই ইলামবাজারের সুখবাজারে গরুর হাট ঘিরে উৎসবের আবহ। ভোর হতেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাক, ভ্যান কিংবা পায়ে হেঁটে গরু নিয়ে হাজির হতেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়, দরদামের আওয়াজ আর সারি সারি গবাদি পশুর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠত গোটা এলাকা। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকারি কড়াকড়ি ও নতুন নির্দেশিকার জেরে এখন কার্যত ফাঁকা পড়ে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন এই গরুর হাট।
সরকারি নির্দেশিকা জারির পর জেলার বিভিন্ন গরুহাটে নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। পশু পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর জেরেই বহু ব্যবসায়ী আপাতত হাটে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।জেলার পুলিশ সুপার সূর্য প্রতাপ যাদব জানান, “সরকারি নির্দেশিকা মেনে বৈধ কাগজপত্র থাকলে ব্যবসা করতে কোনও সমস্যা নেই। যাঁদের নথি নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম কার্যকর হবে। সরকারের নির্দেশ মেনেই হাট পরিচালনা করা হবে এবং নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইলামবাজারের সুখবাজার হাট দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম বড় পশুহাট হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই হাট থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশে গরু পাচারের অভিযোগে তদন্তে নামে সিবিআই ও ইডি। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এরপর থেকেই এই হাটকে ঘিরে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়তে থাকে।সামনেই কুরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা। এই সময় গবাদি পশুর কেনাবেচা সাধারণত সবচেয়ে বেশি হয়। ফলে হাট কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী শেখ মতিউর রহমান, শেখ হাসমত আলি ও আবদুল করিমদের দাবি, “এই হাট প্রায় ১০০ বছরের পুরনো।
কুরবানির ঠিক আগে হাট বন্ধ থাকায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, কোনও অশান্তি এড়াতেই প্রশাসনের তরফে অলিখিতভাবে হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, হাট অবৈধ নয় এবং সমস্ত কিছুই সরকারি নিয়ম মেনেই পরিচালিত হবে।রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় গবাদি পশু পাচার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। তবে তার প্রভাব পড়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পশুহাটের উপরেও।





