কলকাতা, ১৮ মে: বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ফের নতুন বিতর্ক উস্কে দিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কেএলও। সংগঠনের তরফে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় উত্তরবঙ্গে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের স্লোগান এবং উত্তরবঙ্গ কোনওভাবেই বাংলাদেশ নয়। উত্তরবঙ্গের মানুষের স্লোগান হওয়া উচিত ‘জয় আই কামতাপুর’।
ভিডিও বার্তায় আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই স্লোগান পরিবর্তন করতে হবে। সংগঠনের তরফে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “মুখে জয় বাংলা বলবেন আর বিপদের সময় নিজেকে রাজবংশী পরিচয় দেবেন, সেটা চলবে না।” এই বার্তা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও ভাইরাল ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করেছিল। তৎকালীন তৃণমূল সরকার বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের পালটা হিসেবে ‘জয় বাংলা’কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই স্লোগান জাতীয় আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ হাইকোর্টও ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
অন্যদিকে, ভোটের আগেই কেএলও প্রধান জীবন সিং-র নামে দুটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসে, যেখানে উত্তরবঙ্গের মানুষকে বিজেপিকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এরপর বিজেপির ব্যাপক সাফল্যের পর নতুন করে কেএলও-র সক্রিয়তা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, উত্তরবঙ্গে নিজেদের প্রভাব পুনরায় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে কেএলও। বিশেষ করে রাজবংশী আবেগ ও পৃথক পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে এনে সংগঠনটি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলেই মত তাঁদের।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, “বাংলাদেশের জয় বাংলা স্লোগান বলে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হবে না।” সেই আবহেই কেএলও-র এই ভিডিও ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।





