বর্ধমান, ১০ অক্টোবরঃ বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সংগঠনের জমি আরও শক্ত করতে চাইছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। শুধু সংগঠনের পরিধি বাড়ানো নয়, আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের মন জয় করার উপরেও জোর দিতে চান সংঘপ্রধান মোহন ভাগবত। শুক্রবার বর্ধমানে সংঘের পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর বার্তা, সংগঠনকে হতে হবে ‘সর্বস্পর্শী’। অর্থাৎ, সমাজের আরও বিস্তৃত অংশের কাছে পৌঁছতে হবে সঙ্ঘকে। আরএসএস সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন ভাগবত। কলকাতা হয়ে বর্ধমানে পৌঁছে তিনি উল্লাস উপনগরীতে আরএসএসের মধ্য প্রান্তের কার্যালয়ে রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। শুক্রবার সকালেও সংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শরীরচর্চায় অংশ নেন বলে সূত্রের খবর। তার পর দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হয় মধ্যবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সংগঠকদের সঙ্গে। সংগঠনের সাংগঠনিক রদবদল, বিস্তার এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সেই বৈঠকেই সংগঠনের পদাধিকারীদের উদ্দেশে ভাগবতের স্পষ্ট বার্তা, যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। তাঁদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। বদলের বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক বিস্তার কতটা হয়েছে, রাজ্যে কতগুলি শাখা রয়েছে সেই বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ঠিক কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে ভাগবতের এই সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি বেসরকারি স্কুলের সভাকক্ষে স্বয়ংসেবকদের একত্রিকরণ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন তিনি। রাতে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সেই সাক্ষাতের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
আরএসএসের ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসুর বক্তব্য, সংঘ পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সংগঠন বিস্তারের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনটি প্রান্তের স্বয়ংসেবকেরা সংঘপ্রধানের বার্তা শুনেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বার রাজ্যে সফর শেষ হলেও ডিসেম্বর মাসে ফের বাংলায় আসতে পারেন ভাগবত। সূত্রের খবর, ব্রিগেডে প্রস্তাবিত ‘লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েক জন প্রবুদ্ধ নাগরিকের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হতে পারে। সব মিলিয়ে, বাংলায় সংগঠনের পরিধি বাড়ানো এবং আরও বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে পৌঁছনোর লক্ষ্যেই ভাগবতের এই সফরকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংঘ।





