খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৭ জানুয়ারিঃ শীত পড়লেই অনেকের শরীর ঠান্ডায় কাঁপতে শুরু করে। হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে সর্দি-কাশি ও জ্বরের সমস্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় শুধু গরম জামাকাপড় পরলেই চলবে না, শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখার জন্য খাদ্যাভ্যাসেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে, যা শরীরের ভেতরে তাপ উৎপন্ন করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে আদা একটি অত্যন্ত উপকারী উপাদান। আদা প্রাকৃতিক থার্মোজেনিক খাবার, যা রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরের ভেতর উষ্ণতা জোগায়। প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে এক কাপ আদা-চা শীতে শরীরকে আরাম দেয় ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা কমায়।
শীতের আরেকটি উপকারী খাবার হল তিল। কালো বা সাদা তিলে রয়েছে ভালো ফ্যাট ও ক্যালসিয়াম, যা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। নলেন গুড় বা খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি তিলের লাড্ডু শীতের আদর্শ খাদ্য বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা। পাশাপাশি গুড় নিজেও শরীরে তাপ তৈরি করে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমাণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ড্রাই ফ্রুটস ও বাদামও শীতে অত্যন্ত উপকারী। কাজু, বাদাম, আখরোট ও কিশমিশ শরীরে শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘক্ষণ উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে এই খাবার খেলেই উপকার মিলবে।
এছাড়া রান্নায় অল্প পরিমাণে ঘি বা সর্ষের তেল ব্যবহার করলে হজমশক্তি বাড়ে এবং ঠান্ডা প্রতিরোধে সহায়তা করে। রাতে গরম ডাল বা সবজি স্যুপ খেলে শরীর উষ্ণ থাকে ও সহজে হজম হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের দিনে শরীর উষ্ণ রাখা শুধু আরামের জন্য নয়, সুস্থ থাকার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জলপান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম এই তিনের সমন্বয়েই কড়া শীতেও শরীর থাকবে উষ্ণ, সক্রিয় ও রোগমুক্ত।





