কলকাতা, ১৮ আগস্টঃ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি। প্রশাসনের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। অথচ দেশের ২৮ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ১৪ জনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা বিচারাধীন। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন একটি মামলায় আদালত-সহায়ক আইনজীবীর জমা দেওয়া রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সেই তালিকায় নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গও। গুরুতর অপরাধের মামলার সংখ্যায় মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রিপোর্ট অনুযায়ী, তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৮৯। তাঁর পরেই শুভেন্দু ২৯টি মামলায় তাঁর নাম রয়েছে। তৃতীয় স্থানে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার, তাঁর বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা বিচারাধীন। তালিকায় আরও রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, কেরলের ভিডি সতীশন, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ, হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিং-সহ আরও কয়েক জন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে সংখ্যার হিসাবের আড়ালে রয়েছে অন্য এক রাজনৈতিক গল্পও। রিপোর্ট প্রকাশের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এই মামলাগুলি কি সত্যিই অপরাধের প্রমাণ, নাকি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাতের আইনি পরিণতি?
শুভেন্দুকে ঘিরে সেই প্রশ্ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পর্বে তিনি বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। ক্ষমতার পালাবদলের পরে সেই মামলাগুলির আইনি লড়াইও চলেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসে রেভন্ত রেড্ডির ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের চূড়ান্ত দায়িত্ব আদালতেরই।
শুভেন্দুর নামের পাশে ২৯টি মামলা—এই সংখ্যা তাই রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিতে পারে। বিশেষ করে যখন একই রিপোর্টে বাংলার বিধায়কদের ক্ষেত্রেও গুরুতর অপরাধের মামলার উচ্চ হার সামনে এসেছে। ২৯৩ জন বিধায়কের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধে এমন মামলা বিচারাধীন, অর্থাৎ প্রায় ৫৮ শতাংশ।
শুধু বিধানসভা নয়, সংসদেও ছবিটা উদ্বেগের। রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকসভা ও রাজ্যসভার যথাক্রমে ৩৩ এবং ৩১ শতাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন।
আদালত-সহায়ক আইনজীবী বিজয় আনসারিয়ার রিপোর্ট মূলত রাজনীতিতে অপরাধের অভিযোগের বিস্তার নিয়ে একটি বৃহত্তর ছবি সামনে এনেছে। সেখানে শুভেন্দুর ২৯টি মামলা নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু আইনি বিচারে অভিযোগ আর অপরাধ প্রমাণ দুই এক নয়। ফলে এখন নজর থাকবে মামলাগুলির পরবর্তী গতিপথে। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর পদ যত বড়, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের রাজনৈতিক অভিঘাতও তত গভীর।





