নিজস্ব সংবাদদাতা, ২০ জুলাইঃ একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতির মাঝেই আর্থিক চাপে আরও কোণঠাসা ‘কালীঘাট তৃণমূল’। দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় সোমবার কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এই অবস্থানের জেরে আপাতত কার্যকর হল না আগের বেঞ্চের সেই নির্দেশ, যেখানে বিশেষ আধিকারিকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
দলের অন্দরের দ্বন্দ্ব থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। একদা দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় চিঠি দিয়ে দাবি করেন, সংগঠনের ভিতরে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, বহু সাংসদ দল ছেড়েছেন, একাধিক বিধায়ক প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা উচিত। এমনকি তাঁর সই করা চেকের অপব্যবহারের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
অরূপের সেই অবস্থানকে সমর্থন জানান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁর অনুগামী ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দলীয় অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে ফ্রিজ করার আবেদন করেন। এরপরই তদন্তে নামে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি।
তদন্তে নেমে ইডির দাবি, দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। সম্প্রতি প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব চেয়ে ব্যাঙ্কের কাছে নথিও তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তার আগেই তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।
অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ আদালতের দ্বারস্থ হলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিশেষ আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে সীমিত লেনদেনের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সেই মামলায় হস্তক্ষেপ না করায় আপাতত সেই নির্দেশের বাস্তবায়নও অনিশ্চিত রইল। ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি আর্থিক সঙ্কটের চাপও আরও বাড়ল ‘কালীঘাট’ শিবিরের।





