খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ নবারুণ ভট্টাচার্যের আপসহীন কবিতার পঙ্ক্তি দিয়ে শুরু। তারপর একের পর এক আক্রমণ। মঙ্গলবার লোকসভায় বাজেট প্রস্তাবের উপর আলোচনায় প্রায় ৩৩ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে শাসকদল বিজেপিকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। “এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না… আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব” এই কবিতার লাইনেই স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর বক্তব্যের সুর ও মেজাজ।
সাদা জামার উপর কালো টাইট ফিটিংস গোল গলার সোয়েটার, হাতে একটি ট্যাব পোশাক ও বলার ভঙ্গিতেই নজর কাড়েন অভিষেক। পিছনে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব, পাশে অখিলেশ যাদব। সংসদের ভিতরে তাঁর বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী শিবিরে বারবার ওঠে ‘শেম শেম’ ধ্বনি।
বাজেট আলোচনায় অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, তিনি এদিন কোনও আঞ্চলিক দলের নেতা হিসেবে নয়, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবেই কথা বলছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের উপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে, মাইনে বাড়ছে না। এতে দেশের মানুষের কষ্ট আরও তীব্র হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেটকে তিনি ‘উল্টো রবিনহুড বাজেট’ বলে কটাক্ষ করেন। অভিষেকের দাবি, এই বাজেটে সৎ করদাতাদের উপর বাড়তি বোঝা চাপানো হয়েছে, আর যাঁরা কর ফাঁকি দেন, তাঁদেরই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি সমাধানের বাজেট নয়, এটি প্রচারের বাজেট।
বিরোধী রাজ্যগুলির প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে ভাষণ দিলেও একবারও বাংলার নাম উল্লেখ করেননি। অথচ ডানকুনি ফ্রেইট করিডরের মতো প্রকল্পের ঘোষণা প্রথম হয়েছিল ২০০৯ সালে, তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই সে কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক।
সংবিধানে রাজ্যগুলির সমানাধিকারের প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র মিত্র রাজ্যগুলিকে অর্থ বরাদ্দে ভরিয়ে দিচ্ছে, আর বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলির প্রাপ্য টাকা আটকে রাখছে। তাঁর দাবি, বাংলার প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
ভাষণের শেষদিকে আরও চড়া সুরে অভিষেক বলেন, আজকের ভারতে তিনটি জিনিস নিশ্চিত কর বাড়ছে, চাপ বাড়ছে এবং বিশ্বাস ভাঙছে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা, বাইরে কাজে গেলে পরিযায়ী শ্রমিকদের অনুপ্রবেশকারী বলে দাগানো হচ্ছে এই পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মণিপুরে অশান্তি, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, ধর্মীয় বিভাজন সবকিছুর প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করেন অভিষেক।
শেষে সংবিধানের প্রস্তাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উই দ্য পিপল অফ ইন্ডিয়া’ সরকার নয়, দেশের মানুষই শেষ কথা বলবে। শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে, আর এই অবিচার একদিন না একদিন শেষ হবেই এই বার্তা দিয়েই ভাষণ শেষ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।





