কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বরঃ সাদা রঙের প্রলেপে ঢাকা পড়েছিল রাজনৈতিক দেওয়াল লিখন। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফিরেছিল স্লোগান, কার্ল মার্ক্সের উদ্ধৃতি। তার পর ফের রাতের অন্ধকারে চুনকাম! যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন ঘিরে সেই টানাপড়েনই নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ ও পুরকর্মীর পরিচয়ে কয়েক জন ক্যাম্পাসে ঢুকে ফের দেওয়াল লিখন মুছে দিয়েছেন এমনই অভিযোগ পড়ুয়াদের একাংশের।
পড়ুয়াদের দাবি, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ৪ নম্বর গেট দিয়ে কয়েক জন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার কর্মী বলে পরিচয় দেন। দেওয়াল সাদা করার কাজেই এসেছেন বলে জানান তাঁরা। পুলিশ নাকি নিরাপত্তার জন্য তাঁদের সঙ্গে ছিল।
এর কিছু পরে হস্টেলের পড়ুয়ারা বাইরে এসে দেখতে পান, ফের সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে সেই দেওয়ালে, যেখানে সোমবার নতুন করে রাজনৈতিক স্লোগান এবং মার্ক্সের উদ্ধৃতি লেখা হয়েছিল। কার নির্দেশে রাতের ওই কাজ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল কি না তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে ক্যাম্পাসের ‘আপত্তিকর’ দেওয়াল লিখন নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। রাজনৈতিক স্লোগান ও গ্রাফিটি সরিয়ে দেওয়ার পর ফের তা লিখে দেয় বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা বলে অভিযোগ। ফলে চুনকাম বনাম পুনর্লিখনের কার্যত এক ‘দেওয়াল-যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের ১৯(১)(a) অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও তা সীমাহীন নয়। জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা বা অন্যান্য আইনি কারণে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিধি, সম্পত্তি ব্যবহারের নিয়ম এবং অনুমতি ছাড়া দেওয়াল লিখনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মূল প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। ক্যাম্পাসের ভিতরে রাজনৈতিক দেওয়াল লিখন রাখা হবে কি না, মুছে ফেলা হবে কি না সিদ্ধান্তটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েই বিতর্ক।
এক পক্ষের যুক্তি, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক স্লোগান ও উস্কানিমূলক লিখন থেকে মুক্ত রাখা দরকার। অন্য পক্ষের বক্তব্য, মতপ্রকাশের জায়গা সংকুচিত করে সমস্যার সমাধান হয় না।
ফলে যাদবপুরের দেওয়াল এখন শুধু রং-তুলি বা স্লোগানের লড়াই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমারেখা নিয়েও বড় প্রশ্নের দেওয়াল হয়ে উঠেছে।





