হাওড়া, ২ সেপ্টেম্বরঃ এক পশলা বৃষ্টি নামলেই জলমগ্ন রাস্তা। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার নিকাশি উপচে দুর্ভোগ। বছরের পর বছর হাওড়ার এই বর্ষার যন্ত্রণা মেটাতে এ বার বড়সড় পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের। ৪৭০২ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে কেএমডিএ। রাজ্য মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যেই অনুমোদন মিলেছে সেই পরিকল্পনায়। প্রশাসনের দাবি, জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কাজ শুরু হয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে শেষ হবে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, প্রকল্পের ৩০ শতাংশ অর্থ দেবে রাজ্য সরকার। বাকি ৭০ শতাংশ আসবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি)-এর অর্থায়নে। তাঁর কথায়, কাজ শেষ হলে বর্ষাকালে হাওড়া ও বালিতে জল জমার সমস্যা অনেকটাই মিটবে।
তবে মাস্টারপ্ল্যানের ঘোষণা যখন ভবিষ্যতের আশ্বাস, তখন বাস্তবের হাওড়ায় মঙ্গলবারের বৃষ্টিই ফের তুলে ধরেছে পুরনো সমস্যার ছবি। শিবপুর রোড, পঞ্চাননতলা রোড এবং সংলগ্ন বিভিন্ন গলিতে জল জমে যায়। ক্ষীরেরতলা গলি, কদমতলা গলি, পাগলা ফৌজের গলির পাশাপাশি মধ্য ও দক্ষিণ হাওড়ার চূনাভাটি, থানামাকুয়া, বিবেকানন্দনগরেও ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।
প্রশাসনের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু নালা পরিষ্কার করা নয়, শহরের সামগ্রিক নিকাশি পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে শক্তিশালী করা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি বাড়ার প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহরের নিকাশি পরিকাঠামো আধুনিকীকরণও এখন বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
এ দিকে, ভারী বৃষ্টি ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জেলার অন্য প্রান্তেও। শ্যামপুরের বাসুদেবপুরে হুগলি নদীর বাঁধ রক্ষায় সেচ দফতর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে। বাঁশের খাঁচায় ইট এবং জালের মধ্যে ভাঙা ইট ফেলে বাঁধের ক্ষয় আটকানোর চেষ্টা চলছে। বিধায়ক হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়ও এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
অন্য দিকে, সন্দেশখালি-২ ব্লকের মনিপুর পঞ্চায়েতের তালতলা কাছারিপাড়ায় রায়মঙ্গল নদীর বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট অংশে ধস নামে। পূর্ণিমার ভরা কোটাল ও ভারী বৃষ্টির জেরে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। সেচ দফতরের আধিকারিকেরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করেছেন।
হাওড়ার জলযন্ত্রণা থেকে সুন্দরবনের নদীবাঁধ বর্ষা ফের মনে করিয়ে দিল, জল সামলাতে শুধু তাৎক্ষণিক মেরামতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামোগত পরিকল্পনাই এখন সময়ের দাবি।





