কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বরঃ ‘তারে বলে দিও, সে যেন আসে না…।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে সেই গান বাজলেই বাঙালির মনে যে মুখটি ভেসে ওঠে, তিনি উত্তম কুমার। পর্দার সেই চিরচেনা রোমান্টিক নায়ক এ বার ফিরছেন পুজোর মণ্ডপে। তবে পর্দায় নয়, স্মৃতি আর শিল্পের আবহে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে বালিগঞ্জ সমাজসেবীর পুজোয় তাই এ বার থিম ‘মহাপুজোয় মহানায়ক’।
ষাট-সত্তরের দশকে পুজোর সময়ে পায়ে হেঁটে এই মণ্ডপে আসতেন উত্তম কুমার। মায়ের প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন, কখনও বা নিজের অভিনীত ছবির গান শুনে হারিয়ে যেতেন স্মৃতিতে। সেই পুরনো আবহই এবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। গিলে করা পাঞ্জাবি, ঢাকাই পাড়ের ধুতি, পুরনো দিনের কলকাতা সব মিলিয়ে মণ্ডপে তৈরি হবে এক অন্য সময়ের দরজা।
উত্তম কুমারের ২০৩টি বাংলা এবং ৯টি হিন্দি ছবি মুক্তি পেয়েছিল বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। তাঁর অভিনয়জীবনের জানা-অজানা নানা অধ্যায় উঠে আসবে মণ্ডপসজ্জায়। থাকবে সিনেমার পোস্টার, সেই সময়কার হরফের আদলে ক্যালিগ্রাফি, বিখ্যাত ছবির দৃশ্য এবং সংলাপ। সরকারি আর্ট কলেজের শিল্পীরা ইতিমধ্যেই সেই কাজ করছেন।
‘দৃষ্টিদান’ দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। প্রথম দিকে একের পর এক ছবি ব্যর্থ হলেও ‘বসু পরিবার’-এর পর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’-এ সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বাঁধতেই বদলে যায় ছবির গল্প। বাঙালি পেয়ে যায় তার চিরকালের মহানায়ককে। ‘সপ্তপদী’, ‘নায়ক’, ‘পথে হল দেরী’, ‘দুই পৃথিবী’, ‘অগ্নীশ্বর’, ‘দেওয়া নেওয়া’-র মতো ছবির স্মৃতিও থাকবে এই আয়োজনের অন্দরে।
শুধু অভিনেতা উত্তম নন, মণ্ডপে তুলে ধরা হবে ‘মানুষ উত্তম’-কেও। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পুজোর সঙ্গে সম্পর্ক, কর্মজীবনের নানা মুহূর্ত সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে কিংবদন্তিকে চিনিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। জন্মশতবর্ষে তাঁর তিন নায়িকা সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেনের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। থাকবে বিশেষ অডিয়ো-ভিস্যুয়াল।
জেন-জি-র যুগে দাঁড়িয়েও উত্তম কুমার যে কেন এখনও বাঙালির প্রেম, আবেগ এবং নস্টালজিয়ার সবচেয়ে বড় নাম এবার সেই উত্তরই খুঁজবে পুজোর কলকাতা। আর সমাজসেবীর মণ্ডপে হয়তো মনে হবে, মহানায়ক কোথাও যাননি। তিনি এখনও আছেন আলো-ছায়ার ফাঁকে, বাঙালির স্মৃতির একেবারে পাশে।





