খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত মামলা ঘিরে শীর্ষ আদালতে কার্যত চাপের মুখে পড়ল নির্বাচন কমিশন। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (ADR)-এর আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর সংক্রান্ত মূল মামলাটির শুনানি করছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী স্পষ্টভাবে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কাউকে দেশ থেকে তাড়ানো বা নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া নয়। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ। সেই কারণেই নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কিছু তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এর বাইরে কোনও পুলিশি তদন্ত বা দমনমূলক পদক্ষেপের প্রশ্নই নেই।”
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলেই আদালতে উঠে আসে। অনেকেরই প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে কি নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে? এই প্রসঙ্গে কমিশনের আইনজীবী জানান, নাগরিকত্ব যাচাই বা নির্ধারণ করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। তিনি বলেন, “এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় কারও নাম না থাকলে, তাঁকে নাগরিক বলা যাবে না এমন সিদ্ধান্ত কমিশন নিতে পারে না। এমনকি কেউ দেশে থাকবেন কি না, সেটাও কমিশনের বিষয় নয়।”
কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী, সংবিধান অনুসারে ১৮ বছর ঊর্ধ্ব ভারতীয় নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম তোলা একটি সাংবিধানিক অধিকার ও কর্তব্য। ভোটার তালিকা শুদ্ধ রাখার দায়িত্ব কমিশনের উপর থাকলেও, তার সীমা কোথায় সেই প্রশ্নে বিচারপতিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে যদি কোনও ব্যক্তি সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যায় পড়েন, তাহলে তার দায়িত্ব কে নেবে?” তাঁর মতে, এসআইআর কমিশনের কাজ হলেও তা কি বিচারবিভাগের পর্যবেক্ষণের বাইরে থাকতে পারে? এই প্রশ্নের মুখে কমিশনের আইনজীবী কোনও সরাসরি উত্তর দিতে পারেননি।
এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিচার করা অত্যন্ত জরুরি। মামলার পরবর্তী শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা ও দায়িত্বের সীমারেখা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল।





