খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারি: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের পুরনো নির্দেশিকা মেনেই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।
নবান্নকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বরের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁরা সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত এমন কোনও পুলিশ আধিকারিককে নিজের ঘরোয়া জেলা বা দীর্ঘদিন কর্মরত জেলায় রাখা যাবে না। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই নির্দেশ বলেই জানানো হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্টকে মাথায় রেখে ৩১ মে ২০২৬-কে ‘বেস ডেট’ হিসেবে ধরে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে ২০২৬। তার আগেই নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সেরে ফেলতে চাইছে কমিশন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব পুলিশ আধিকারিক নিজ জেলা বা গত চার বছরের মধ্যে কোনও জেলায় তিন বছর পূর্ণ করেছেন, তাঁদের সেই জেলা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এই হিসাবের ক্ষেত্রে পদোন্নতির পর একই জেলায় কাজ করার সময়কালও গণনায় ধরা হবে। পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা এবং তার ঊর্ধ্বতন সমস্ত আধিকারিকের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। বিশেষ করে জেলা বা মহকুমা স্তরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বাহিনী মোতায়েনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের উপর এই বিধি কার্যকর হবে।
তবে এই নির্দেশিকার বাইরে রাখা হয়েছে কিছু বিভাগকে। কম্পিউটারাইজেশন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, প্রশিক্ষণ শাখা বা অনুরূপ দফতরে কর্মরত পুলিশ আধিকারিকদের এই বদলি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে না বলে চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এছাড়াও নির্বাচন সংক্রান্ত শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। যেসব পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে অতীতে নির্বাচন সংক্রান্ত গাফিলতিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অথবা যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের কোনওভাবেই নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা যাবে না। একইভাবে, যাঁদের অবসর নিতে ছয় মাসের কম সময় বাকি, তাঁদেরও নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। যদিও এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে জেলা থেকে বদলি করতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সব পুলিশ আধিকারিককে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে লিখিত ঘোষণা দিতে হবে। সেখানে জানাতে হবে, তাঁদের কোনও প্রার্থী বা শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নয়। ভুল বা ভ্রান্ত তথ্য দিলে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের পথেই হাঁটছে নির্বাচন কমিশন এমনটাই স্পষ্ট সিইও দফতরের এই চিঠি থেকে।





