কলকাতা, ৫ আগস্টঃ কোনও পূর্বঘোষণা নয়, আচমকাই থানায় হাজির মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সকালে একের পর এক থানা, লালবাজার এবং দমকলের সদর দপ্তরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন তিনি। একই সময়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। প্রশাসনের অন্দরে এ দিনের এই আকস্মিক তৎপরতা ঘিরে শুরু হয় জোর চর্চা।
পূর্ত দপ্তরে বৈঠক শেষ করেই বন্দর এলাকার ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে থানার দৈনন্দিন কাজকর্ম, অভিযোগ নথিভুক্ত করার পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিশেষ করে প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য পৃথক হেল্পডেস্ক তৈরির নির্দেশ কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন। থানার বিভিন্ন রেজিস্টারও পরীক্ষা করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বন্দর বিভাগের ডিসিও।
দুই থানা ঘুরে মুখ্যমন্ত্রী যান রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে। সেখানে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের সঙ্গে বৈঠক করে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে সেখান থেকে দমকলের সদর দপ্তরে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা, আধুনিক সরঞ্জাম এবং উদ্ধার ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
নবান্ন সূত্রে খবর, গোটা সফরই ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পনাহীন। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর বাস্তবে কীভাবে কাজ করছে, তা সরেজমিনে দেখতেই এই আকস্মিক পরিদর্শন।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এ দিন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে পরিকাঠামো, পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি।
প্রশাসনের শীর্ষস্তরের এই ধারাবাহিক সারপ্রাইজ ভিজিটকে সরকারি পরিষেবার জবাবদিহি ও কর্মক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবেই দেখছে প্রশাসনিক মহল।





