তামিলনাড়ু, ৪ অক্টোবরঃ কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। শনিবার চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর ইন্ডি জোটের বৈঠকে টিভিকে-র শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি সেই জল্পনায় সিলমোহর দিল। বৈঠকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে থলপতি বিজয়ের দলকে। শুধু জোটে যোগ দেওয়া নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ইন্ডি জোটের ঘোষিত কর্মসূচিতেও অংশ নেবে টিভিকে।
রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই যোগদান এমন এক সময়ে, যখন বিরোধী জোটের অন্দরেই তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিল আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে। কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি নির্বাচনী সংঘাতের কারণেই দুই দল জোটের মঞ্চে থাকতে চাইছে না বলে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা।
বিশেষ করে পাঞ্জাবের আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস ও আপ মুখোমুখি। গোয়া এবং গুজরাটেও দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জাতীয় স্তরের বিরোধী ঐক্যের ছবিতে ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সমীকরণ আরও জটিল। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকে-র দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই কংগ্রেসের বিজয়ের দলের দিকে ঝুঁকে পড়া স্ট্যালিন শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। এমন পরিস্থিতিতে টিভিকে-র ইন্ডি জোটে প্রবেশ বিরোধী শিবিরকে কিছুটা হলেও নতুন অক্সিজেন দিতে পারে।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের দফতর অভিযান কর্মসূচিতেও টিভিকে নেতারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় টিভিকে, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি যৌথ কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি করছে। যদিও বিজয় নিজে এখনও কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করেননি। ফলে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।
ইন্ডি জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে জোটের বাইরে থাকা দলগুলিকেও ভবিষ্যতের কর্মসূচিতে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সূত্রে নবীন পট্টনায়েক ও অরবিন্দ কেজরীওয়ালের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল বলে খবর। তাঁদের তরফে সাড়া না মিললেও বিজয়ের দলকে জোটে টেনে এনে আপাতত সেই উদ্যোগে সাফল্য পেল বিরোধী শিবির। এখন দেখার, জাতীয় রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ তামিলনাড়ুর ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে।





