কলকাতা, ৫ মেঃ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, “আমরা তো হারিনি, তাহলে ইস্তফা দেব কেন?” এই অবস্থানকে ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। অন্যদিকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান নতুন করে সাংবিধানিক প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার বৈধতা থাকে না।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ বা অপসারণের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে থাকে। ফলে তিনি চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পদত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন। নির্দেশ অমান্য করলে বরখাস্ত করার পথও খোলা রয়েছে।
অন্য একটি সম্ভাবনা হল, রাজ্যপাল বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতেই হবে।
এছাড়াও আরও কঠোর সাংবিধানিক পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশও করা যেতে পারে। সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি কোনও রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার সেই রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি কেন্দ্রের হাতে চলে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এই ইস্যুতে দ্রুত সমাধান না হলে প্রশাসনিক জটিলতা আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের এই আবহে এখন নজর রাজ্যপাল ও কেন্দ্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





