নন্দীগ্রাম, ৬ অক্টোবরঃ মাত্র মাস পাঁচেকের ব্যবধান। আর তার মধ্যেই বদলে গিয়েছে রাজ্যের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ। মঙ্গলবার উপনির্বাচনের ময়দানে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। সেই জায়গায় কার্যত বিরোধী লড়াইয়ের মুখ হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। আর ভোটের দিন সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরে সেই লড়াইয়ের উত্তাপ বাড়ালেন সদ্য জামিনে মুক্ত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান।
সকালে স্ত্রী অর্পিতা প্রধানকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দামারির বুথে ভোট দেন মিলন। তার পরেই বেরিয়ে পড়েন বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে। সোনাচূড়ার জলপাই এলাকায় পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। কয়েক জন ভোটার প্রার্থীকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান বলে খবর। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনার পর ফোনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানান মিলন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন বুথে তাঁর দলের এজেন্টদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিভিন্ন বুথে আমাদের এজেন্টদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। এটা তো গণতন্ত্রের পরীক্ষা। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে আমাদের আটকাতে হচ্ছে কেন?’’
নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি শেখ আসরাফুলতুল্লাকে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলেও দাবি করেন মিলন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের পরিবেশ নিয়ে একাধিক জায়গায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তিনি জানান, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সব বুথে যাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং বিষয়গুলি কমিশনের নজরে আনবেন।
অন্য দিকে, নন্দীগ্রামের সরবেড়িয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় সিপিআই প্রার্থীর এক এজেন্ট আহত হয়েছেন বলে খবর। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। ফলে সকাল গড়াতেই নন্দীগ্রামের ভোটে একাধিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে নন্দীগ্রামে এবার মূল লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে যাওয়া আসনে ব্যবধান আরও বাড়ানোই বিজেপির লক্ষ্য। দলের প্রার্থী শুভেন্দুর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। তাঁর লক্ষ্য ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়। অন্য দিকে, মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী এহতেশামুল হকও রয়েছেন লড়াইয়ে। পাশাপাশি সিপিআইয়ের শান্তি গিরি এবং কংগ্রেসের মিলন প্রধানের উপস্থিতিতে ভোটের অঙ্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে নন্দীগ্রামে।
ভোটের শুরুতেই তাই প্রশ্ন একটাই নন্দীগ্রাম কি ফের বিজেপির দুর্গ হিসাবেই থাকবে, নাকি বদলের বার্তা দেবে উপনির্বাচনের ফল?




