কোচবিহার, ১০ জুলাইঃ মাসের ১০ তারিখ পেরিয়ে গেলেও বেতন মেলেনি। আর সেই ক্ষোভেই শুক্রবার কোচবিহার পুরসভায় পৌরপতির সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে বেতন না মেলায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। দ্রুত বেতন মেটানোর দাবিতে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে সরব হন তাঁরা।
বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি, শুক্রবার দুপুর ২টার মধ্যে তাঁদের বেতন সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে। তা না হলে আগামী সোমবার পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ের দিন বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। প্রয়োজনে একযোগে কর্মসূচি নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অস্থায়ী কর্মীরা।
শুধু বেতন বকেয়া নয়, পুর প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও সুরাহা হচ্ছে না। এক কর্মীর কথায়, “আমাদের মাথার উপর কোনও অভিভাবক নেই। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরদের নিয়মিত দেখা যায় না। আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করছি, অথচ সমস্যার কথা শোনারও কেউ নেই।”
কর্মীদের দাবি, তাঁরা প্রতিদিন নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও সময়মতো বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, ঋণের কিস্তি এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও অভিযোগের জবাবে কোচবিহার পুরসভার পৌরপতি জানান, বেতন প্রদানের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক কিছু আনুষ্ঠানিকতার কারণে সামান্য বিলম্ব হলেও শুক্রবারের মধ্যেই কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেতন পৌঁছে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
পৌরপতির আশ্বাসে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও কর্মীদের বক্তব্য, প্রতিমাসে যদি একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে তাঁরা বাধ্য হবেন। এখন নজর, প্রতিশ্রুতি মতো দিনের মধ্যেই বেতন মেটে কি না।





