কোচবিহার, ১০ জুলাইঃ আশা কর্মীদের উপর বাড়তে থাকা প্রশাসনিক কাজের চাপ, কর্মপরিবেশের অবনতি এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিদাওয়া ঘিরে ফের সরব হল পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন। শুক্রবার কোচবিহারে জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ দেখিয়ে চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিলেন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবার মূল দায়িত্বের বাইরে একের পর এক প্রশাসনিক কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মীদের উপর অসহনীয় মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
ইউনিয়নের অন্যতম দাবি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের ফর্ম পূরণ বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ অবিলম্বে আশা কর্মীদের দিয়ে করানো বন্ধ করতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, এই ধরনের কাজ তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে একটি সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরে সংগঠন। ইউনিয়নের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপের জেরেই এক আশা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ওই কর্মীর পরিবারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে উপযুক্ত চাকরি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ভাতা, কর্মসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা এবং পরিষেবা-সংক্রান্ত একাধিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে। সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, আশা কর্মীরাই গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রথম সারির মুখ। অথচ তাঁদের ন্যায্য দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত।
জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সংগঠনের নেতৃত্ব জানান, দ্রুত দাবি পূরণে উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রশাসনের তরফে স্মারকলিপি গ্রহণ করা হলেও দাবিগুলি নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে আশা কর্মীদের ক্ষোভ কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।





