মনিরুল হক, কোচবিহার: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বার কোচবিহারে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতেই কোচবিহারে এসে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। আর মন্দিরে পুজো সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনায় বিমানবন্দরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গে বিমান যোগাযোগের প্রসঙ্গ উঠলেই এত দিন মূলত বাগডোগরা বিমানবন্দরের কথাই সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতিতে কোচবিহারে বিমান পরিষেবার পরিকাঠামোকে নতুন করে সক্রিয় করার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর আলোচনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কেন্দ্রীয় অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে কিছু আলোচনা করেছি। এতে কোচবিহার থাকছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়ে। অর্থাৎ আগামী দিনের বিমান যোগাযোগের পরিকল্পনায় কোচবিহারকে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বিমানবন্দরকে ঘিরে শুধু যোগাযোগ নয়, কোচবিহারের পর্যটন সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই পরিকল্পনার ছবিও স্পষ্ট। তাঁর মতে, কোচবিহারে পর্যটক টানতে গেলে রেল ও সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি বিমান পরিষেবাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের রাত কাটানোর জন্য উন্নত মানের গেস্ট হাউস এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কথাও বলেছেন তিনি।
কোচবিহারের পর্যটনের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন রয়েছে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপত্য, তেমনই রয়েছে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের আকর্ষণ। ফলে প্রকৃতি পর্যটন এবং ধর্মীয় পর্যটন দুই ক্ষেত্রকেই সামনে রেখে জেলা উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর কথায়, “রেল-বিমানবন্দর-বাস ও রাত্রিবাসের জন্য ভালো-ভালো গেস্ট হাউস বানাতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, এই পরিকাঠামো তৈরি করা গেলে কোচবিহারকে আরও বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম কোচবিহার সফরে তাই মদনমোহন মন্দিরে পুজোর পাশাপাশি বিমানবন্দর নিয়ে তাঁর মন্তব্যই বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা থেকে বাস্তবে কোচবিহারে বিমান যোগাযোগ কতটা এগোয়, এখন নজর সেদিকেই।





