কলকাতা, ৫ অক্টোবরঃ মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আগেই ‘হিরো’ বলে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ বার তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুধু প্রশংসাতেই থেমে না থেকে বাংলার মাটিতে স্মিতের মতো ‘রাষ্ট্রবাদী’ পাইলট তৈরির বার্তাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেহালায় একটি ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বাংলার তরুণ-তরুণীরা যাতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও কাজ করার সুযোগ পান, সেই লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ভাবনা। কেন্দ্রের কাছ থেকে দ্রুত অনুমোদন মিলবে বলেও আশাবাদী তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ভারতের প্রত্যেক পাইলট দেশকে ভালবাসেন। কিছু দিন আগে আমাদের এক পাইলট নিজের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বহু নিরপরাধ জীবন বাঁচিয়েছেন তিনি। বাংলা থেকে যেন এরকম পাইলট তৈরি হতে পারে, সেই আর্জি জানিয়েছি।’’
গত বুধবারের সেই ঘটনা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান মাঝ আকাশে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। অভিযোগ, ককপিটে আচমকাই ভারতীয় পাইলট স্মিতের উপর হামলা চালান তাঁর কো-পাইলট হামাম। কুঠার দিয়ে তাঁর মাথায় একাধিক বার আঘাত করা হয়।
দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় বিমানটি মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার ফুট থেকে নেমে আসে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায়। অতিরিক্ত চাপের জেরে বিমানের রাডারের একটি অংশও খুলে যায় বলে জানা যায়। গুরুতর জখম অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান স্মিত। শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়।
প্রথমে ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত বিবাদের ফল বলে মনে করা হলেও পরে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে বলে জানা যায়। এর পরেই স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেন একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা। তাঁর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
এ বার সেই ঘটনাকে সামনে রেখেই বাংলায় বিমান প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো গড়ার বার্তা দিলেন শুভেন্দু। তাঁর লক্ষ্য, শুধু দক্ষ নয় দায়িত্বশীল এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধ নতুন প্রজন্মের পাইলট তৈরি করা। বেহালার প্রস্তাবিত ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিমান পরিষেবা ও প্রশিক্ষণ পরিকাঠামোয় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসন।





