নন্দীগ্রাম, ৬ অক্টোবর: মুখ্যমন্ত্রী হলেও ভোটের লাইনে আলাদা কোনও সুবিধা নয়। সাধারণ ভোটারের মতোই মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। কনভয় ছেড়ে টোটোয় চেপে বুথে পৌঁছন তিনি। পথে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ও করেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে এক দিকে ভোটের হার নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করলেন, অন্য দিকে নন্দীগ্রামে বিজেপির ‘রেকর্ড ব্যবধানে’ জয়ের দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ নম্বর বুথে ভোট দেন শুভেন্দু। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দাবি, উপনির্বাচনে সাধারণত ভোটদানের হার কিছুটা কম থাকে। তবে এ বার বেলা গড়াতেই ভোটের হার ৫০ শতাংশ পেরিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে তাঁর অনুমান। একই সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও ফের তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকেই প্রায় ৮২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি। এ বার সেই ব্যবধানও ছাপিয়ে যাওয়ার আশা করছেন। নির্দিষ্ট কোনও সম্ভাব্য ব্যবধান অবশ্য জানাননি মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ভোটের দিন প্রশাসনের নয়, শেষ কথা বলবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হলেও অন্য কোনও বুথে গিয়ে বিধি ভাঙলে পুলিশ তাঁকেও আটক করতে পারে। রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, আইন সবার জন্যই সমান।
নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও, তা বোঝাতে নিজের ভোটার পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। জানান, ভবানীপুর আসন রেখে নন্দীগ্রাম ছাড়তে হলেও নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকায় আমৃত্যু নিজের নাম রাখতে চান তিনি। তাঁর কথায়, নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী।
এদিন বিরোধীদের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের মানুষের আস্থা এখন নতুন সরকারের কাজের উপর। কর্মসংস্থান, গ্রামীণ পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং প্রবীণদের স্বাচ্ছন্দ্য আগামী দিনে এই ক্ষেত্রগুলিতে আরও কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
তবে সব রাজনৈতিক দাবির শেষ উত্তর মিলবে ভোটগণনার দিন। নন্দীগ্রামের ভোটবাক্সে শুভেন্দুর ‘রেকর্ড’ জয়ের দাবি কতটা প্রতিফলিত হয়, সেই অপেক্ষাই এখন ৯ অক্টোবরের।




