খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৩ ফেব্রুয়ারি: আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আনা সব অভিযোগ খারিজ করে শীর্ষ আদালতে পাল্টা হলফনামা জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইডির অভিযোগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই এবং এই মামলা খারিজ হওয়া উচিত।
হলফনামায় মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী দাবি করেছেন, তদন্ত সংক্রান্ত কোনও নথি মুখ্যমন্ত্রী নিজের সঙ্গে করে নিয়ে যাননি। ইডির অভিযোগে যে ফাইল ও নথির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব দলীয় নথি। আরও বলা হয়েছে, ওই নথি নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও ইডি আধিকারিকদের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে বেআইনি ভাবে নথি সরানো বা ‘চুরি’র অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে রাজ্যের বক্তব্য।
ইডির অভিযোগ ছিল, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্ত চলাকালীন আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সল্টলেকের অফিসে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গিয়ে তদন্তে বাধা দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল সামগ্রী সরানোর চেষ্টা করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় এই সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের আরও দাবি, এই সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। সেই পরিস্থিতিতে একই বিষয়ে ইডির সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কোনও আইনগত অধিকার নেই। হলফনামায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে, হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন কেন শীর্ষ আদালতে একই অভিযোগ তোলা হল। পাশাপাশি তল্লাশির পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস না দিয়েই অভিযান চালানো কেন হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে সল্টলেকের আইপ্যাক অফিস ও প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে একযোগে অভিযান চালায় ইডি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন, যা ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী সপ্তাহে ধার্য হয়েছে। সেই শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।





