শিলিগুড়ি, ২১ মেঃ বড়সড় সাফল্য পেল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধাননগর থানার পুলিশ। সমরনগর এলাকায় একটি ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে উদ্ধার করা হল বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপোর গহনা। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে চুরির সঙ্গে জড়িত এক রিসিভারকেও। পুলিশের তৎপরতায় চুরির ঘটনার দ্রুত রহস্যভেদ হওয়ায় স্বস্তিতে বাড়ির মালিক পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ মার্চ সমরনগর এলাকার একটি ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক সম্পা রায় গুহ পরদিন প্রধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে প্রধাননগর থানার অ্যান্টি ক্রাইম উইং। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন পঙ্কজ রায়কে ইতিমধ্যেই অন্য একটি মামলায় ভক্তিনগর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে সে জলপাইগুড়ি সংশোধনাগারে ছিল।
আদালতের নির্দেশে গত ১৪ মে প্রধাননগর থানার পুলিশ পঙ্কজ রায়কে সংশোধনাগার থেকে ‘সুন অ্যারেস্ট’ করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত চুরির ঘটনার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিধাননগর এলাকা থেকে শ্যামল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি চুরি করা সোনা ও রুপো কিনেছিলেন।
দুই অভিযুক্তকে জেরা করে এবং তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ৩০ গ্রাম সোনা, ৪৫ গ্রাম রুপো এবং নগদ ২০ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া গহনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও রুপোর সামগ্রী।
বৃহস্পতিবার প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার সাংবাদিক সম্মেলন করে গোটা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে ফাঁকা বাড়িগুলোকেই বেশি টার্গেট করছে চোরেরা। তাই বাড়ির সদস্যরা বাইরে গেলে সম্পূর্ণ বাড়ি ফাঁকা না রেখে অন্তত একজনকে বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আবেদন জানান।
পুলিশের এই তদন্ত ও অভিযানে দ্রুত সাফল্য আসায় খুশি গৃহবধূ সম্পা রায় গুহ। তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকটি চুরির ঘটনার সূত্র মিলতে পারে। ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে প্রধাননগর থানার পুলিশ।





