খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে সোমবার নির্বাচন কমিশনের নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসে তাদের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে সরগরম আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
জানা গিয়েছে, মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে আগামী ২৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার খিজিরিয়া বাংরুয়া প্রাইমারি স্কুলে হাজিরা দিতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় মন্ত্রীর নিজের ও তাঁর বাবার নামের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরও নিজস্ব বৈধতা প্রমাণের নোটিস পাওয়ায় মন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যে কমিশনের অধীনে আমি তিনবার নির্বাচিত হয়েছি, সেই একই কমিশন কি এখন আমার ভোটাধিকার যাচাই করতে যাচ্ছে?”
অন্যদিকে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “আমি নোটিস নিয়ে আতঙ্কিত নই। ভোটদানের অধিকার সংবিধানের ৩২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত এবং তা কোনো ব্যক্তির আশীর্বাদ বা অভিশাপের উপর নির্ভর করে না।”
এ বিষয়ে রাজনৈতিক মহল মনে করিয়ে দিচ্ছে, এর আগে সাংসদ অভিনেতা দেব, বাপি হালদার, সামিরুল ইসলাম এবং বিধায়ক জাকির হোসেন ও বায়রন বিশ্বাসকেও একই কারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। সোমবার কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়কেও নোটিস প্রদান করা হয়েছে। এই নোটিসগুলো ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
তাজমুল হোসেনের তরফে বলা হয়েছে, “আমি তিনবার নির্বাচিত হয়েছি। এমন নোটিস পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে বিস্ময় ও প্রশ্ন জন্মেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে হাজিরা দেব।” আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বক্তব্য, “ভোটাধিকার সংবিধানের অধীনে সুরক্ষিত। নোটিস প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।”
রাজ্য রাজনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটার তালিকার হিয়ারিংয়ের জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নোটিস পাঠানো নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। তারা মনে করছেন, এই নোটিসগুলোর ফলে রাজনৈতিক মহলে উভয় দলে চাপ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ ভোটাররা এই প্রক্রিয়ার কারণে বিভ্রান্ত হতে পারেন, যা ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নোটিস প্রাপ্ত নেতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্দেশ মেনে হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখনো প্রশ্ন উঠেছে এই নোটিস পাঠানো নীতি কি শুধুই প্রশাসনিক, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও লুকিয়ে রয়েছে? নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দুইয়ের ওপর নজর রাখছে রাজ্যবাসী।





