কলকাতা, ৮ মেঃ সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেন।
অমিত শাহ বলেন, “পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল এবং সব প্রস্তাবেই একটিই নাম ছিল— শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় কোনও নাম আসেনি। তাই তাঁকেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।” এই ঘোষণার পর উপস্থিত বিধায়ক ও নেতারা করতালিতে ফেটে পড়েন। আবেগপ্রবণ শুভেন্দুকেও মঞ্চে চোখ মুছতে দেখা যায়।
বিধায়কদলের বৈঠকে শাহর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর শুভেন্দু রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি-র কাছে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের নির্বাচনে শুভেন্দুর সাফল্যই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছিল। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জি-কে হারানোর পর এবারে ভবানীপুরেও তাঁকে পরাজিত করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেও জয় পান তিনি। ফলে বিজেপির অন্দরেই অনেকের মত ছিল, এই ঐতিহাসিক জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব শুভেন্দুর হাতেই যাওয়া উচিত।
যদিও বিজেপির অতীত ইতিহাসে একাধিক রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে চমক দেখা গিয়েছে, তবুও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত সেই পথে হাঁটেনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সাফল্য উপেক্ষা করা কঠিন ছিল।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র। এছাড়াও একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতারা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সাজো সাজো রব গেরুয়া শিবিরে।





