কলকাতা, ৮ মেঃ বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর এবার কলকাতার দুর্গাপুজোর ময়দানেও দেখা যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরে শহরের একাধিক নামী পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৃণমূলের বিধায়করা। পুজোর ফ্লেক্স, ব্যানার কিংবা কমিটির বিভিন্ন পদে দেখা যেত তাঁদের নাম। কিন্তু এবারের নির্বাচনে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপির জয় আসতেই বদলাতে চলেছে সেই চেনা ছবি।
রাসবিহারী, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, জোড়াসাঁকো, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, শ্যামপুকুর-সহ একাধিক কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতারা। ফলে পুজো কমিটিগুলিও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক সহযোগিতা ছাড়া বড় দুর্গাপুজো আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাই নতুন বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
দক্ষিণ কলকাতার রানিকুঠি এলাকার ঐতিহ্যবাহী নেতাজি জাতীয় সেবাদলের পুজো এবার ৭৬ বছরে পা দিচ্ছে। এতদিন টালিগঞ্জের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের নাম স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে ফ্লেক্সে থাকত। এবার সেখানে বিজেপির জয়ী প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর নাম উঠে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পুজো কমিটির সভাপতি কৌশিক বণিক জানিয়েছেন, নতুন বিধায়ককে অবশ্যই আমন্ত্রণ জানানো হবে।
একই ছবি উত্তর কলকাতার শতাব্দীপ্রাচীন টালা প্রত্যয়েও। এবছর ১০১ বছরে পা দিচ্ছে এই বিখ্যাত পুজো। কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক অতীন ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এবার সেই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপির রীতেশ তিওয়ারি। পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ঘোষ বলেন, “পুজো করতে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কাউন্সিলর, সাংসদ, বিধায়ক সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রাখতে হয়।”
উত্তর কলকাতার আরেক ঐতিহ্যবাহী কাশী বোস লেন দুর্গাপুজোতেও চেয়ারম্যান পদে বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতদিন চেয়ারম্যান ছিলেন অতীন ঘোষ। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন উদ্যোক্তারা। যদিও পুজো কমিটির দাবি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে উৎসবের রং বদলায় না।
অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড় পুজো দেশপ্রিয় পার্কেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এই পুজোর আহ্বায়ক ছিলেন রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক দেবাশিস কুমার। এবার সেই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন বিজেপির স্বপন দাশগুপ্ত। পুজো কর্তাদের বক্তব্য, নতুন বিধায়ককে পুজোর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক ভাবনাচিন্তা চলছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার কলকাতার দুর্গাপুজোর মঞ্চেও যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে, তা এখন স্পষ্ট। তবে পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের কথায়, “রাজা আসে যায়, কিন্তু পুজোর আনন্দ চিরকাল একই থাকে।”





