কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বরঃ জাতীয় সড়কের টোল আদায় ঘিরে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। সেই মামলার সূত্র ধরেই বুধবার ভোরে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণির একটি বহুতলে হানা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি)। শুধু কলকাতা নয়, লখনউয়ে দায়ের হওয়া একটি প্রতারণার মামলার সূত্র ধরে দেশের সাতটি রাজ্যের মোট ১৪টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানোর খবর মিলেছে।
ইডি সূত্রের দাবি, জাতীয় সড়কে টোল আদায়ের সরকারি ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে টোলের রসিদ তৈরি করে গাড়ির চালকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও তার সম্পূর্ণ হিসাব সরকারি ব্যবস্থায় দেখানো হত না। ফলে সরকারি রাজস্বের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
তদন্তকারীদের একটি ছয় সদস্যের দল শেক্সপিয়র সরণির ওই আবাসনে পৌঁছে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও কার্যালয়ে তল্লাশি চালায় বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে আবাসন ঘিরে রাখা হয়। মূল লক্ষ্য ছিল নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজে বের করা।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কথিত দুর্নীতির ‘মানি ট্রেল’ টোল থেকে সংগৃহীত টাকা শেষ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি বা সংস্থার অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে, কারা সেই অর্থের সুবিধাভোগী এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে আর কারা যুক্ত ছিলেন।
ইডি সাধারণত নির্দিষ্ট অপরাধের আর্থিক দিক এবং বেআইনি অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় তদন্ত করতে পারে। তবে কোনও ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি হওয়া মানেই তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলি অভিযোগ হিসাবেই বিবেচ্য।
উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে শুরু হওয়া অভিযোগের সূত্র এখন কলকাতা-সহ একাধিক রাজ্যে পৌঁছেছে। শেক্সপিয়র সরণির ব্যবসায়ীর সঙ্গে টোল-জালিয়াতির সরাসরি যোগ কতটা, তল্লাশিতে কী উদ্ধার হয়েছে এবং কারা এই চক্রে যুক্ত তার উত্তরই এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপ। ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তির অপব্যবহার কতটা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এই তদন্ত সেই প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।





