শিলিগুড়ি, ২১ সেপ্টেম্বরঃ শিশুর ঘাড়ে, চোয়ালের পাশে কিংবা গলার নীচে হঠাৎ ছোট্ট একটা গুটি। চোখে পড়তেই দুশ্চিন্তায় পড়েন বাবা-মা। টিউমার নয় তো? এমন আশঙ্কাও তৈরি হয় অনেকের মনে। অথচ শিশুদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সংক্রমণের কারণেও ফুলে উঠতে পারে লিম্ফ নোড। সেই জায়গা থেকেই নতুন উদ্যোগ শিলিগুড়িতে। ৫০ শিশুকে নিয়ে গবেষণামূলক চিকিৎসার পর এ বার লিম্ফ নোডের সমস্যা নিয়ে আলাদা চিকিৎসা পরিষেবা চালু করল মাটিগাড়ার বড়পথুরে অবস্থিত রিজিওনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর হোমিওপ্যাথি (আরআরএইচ)।
কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের বহির্বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে আসা শিশুদের মধ্যে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার প্রবণতা নজরে আসে চিকিৎসকদের। একই ধরনের সমস্যা নিয়ে একের পর এক শিশু আসায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন নিয়ে শুরু হয় গবেষণা।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে খবর, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০ জন শিশুকে নিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে গবেষণামূলক চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। গবেষণার সময়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যেই করা হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের।
আরআরএইচ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, লিম্ফ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ জন শিশু বহির্বিভাগে এলে তাঁদের মধ্যে প্রায় দু’জনের ক্ষেত্রে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা যেত। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের এই সমস্যার ধরন, চিকিৎসায় প্রতিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়াকে লিম্ফ্যাডেনোপ্যাথি বলা হয়। শিশুদের সর্দি-কাশি, গলার সংক্রমণ, টনসিল, কানের সমস্যা কিংবা দাঁতের সংক্রমণ-সহ বিভিন্ন কারণে সাময়িক ভাবে লিম্ফ নোড ফুলে উঠতে পারে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলে অনেক ক্ষেত্রেই ধীরে ধীরে ফোলাভাব কমে যায়।
তবে দীর্ঘদিন গুটি থেকে গেলে, দ্রুত আকার বাড়লে, গুটি অস্বাভাবিক ভাবে শক্ত হয়ে গেলে কিংবা জ্বর, পুঁজ বা অন্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সব ধরনের ফোলাভাবকে একই চোখে দেখা ঠিক নয়।
আরআরএইচের অধিকর্তা রঞ্জিত সোনি জানান, শিশুদের লিম্ফ নোড নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। বহির্বিভাগে নিয়মিত রোগী আসার পর বিষয়টি নিয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গবেষণা শুরু হয় এবং প্রথম পর্যায়ে ৫০ জন শিশুকে নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। গবেষণার ফল ইতিবাচক হওয়ার পর এ বার পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
ফলে গলা বা ঘাড়ে গুটি দেখলেই আতঙ্ক নয় প্রথমে কারণ জানা জরুরি। সেই সচেতনতার বার্তার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের শিশুদের জন্য নতুন চিকিৎসা পরিষেবা কতটা কার্যকর হয়, এখন নজর সেদিকেই।





