খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ রাজ্যকে এড়িয়ে সাতজন এইআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)-কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য সরকারের কোনও কর্মীকে সরাসরি এভাবে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের আছে কি না। কমিশনের সাফাই, ২০০০ সালে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কমিশনকেই সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যকে এড়িয়ে সরাসরি এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এই প্রথম বলেই মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এসআইআর (সংশোধিত ভোটার তালিকা পুনর্মূল্যায়ন) প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। সোমবার পর্যন্ত নাম বাদ পড়ার সংখ্যা ৬৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এদিনও প্রায় ৫০ হাজার নতুন অযোগ্য ভোটার চিহ্নিত হয়েছেন। পাশাপাশি, এখনও পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ ৮ হাজার ৮৭০ জন অযোগ্য ভোটার চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
রাজ্যের সিইও দফতরের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে-সব কাজই নিয়ম মেনে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “লাগামছাড়া ক্ষমতা কাউকেই দেওয়া হয়নি। এইআরও-দের সাসপেন্ড করা হয়েছে আইন মেনেই।” তাঁর দাবি, অভিযুক্ত সাতজন এসআইআর গাইডলাইন লঙ্ঘন করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই একমাত্র রাজ্য সরকার তাঁদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে পারে, অন্য কোনও পদ্ধতি নেই।
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে সরাসরি সাসপেনশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভার ও অবজার্ভাররা অনিয়ম না করার জন্য সতর্ক করলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই সতর্কবার্তা মানেননি বলেই অভিযোগ। ফলে কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে কমিশন।
অন্যদিকে, তথ্য আপলোড এখনও বকেয়া থাকায় সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। শুনানির পরও যদি কারও নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তবে প্রথমে ডিইও-র কাছে এবং পরবর্তীতে সিইও-র কাছে আপিলের সুযোগ থাকবে।
সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষের মুখে দাঁড়িয়ে কমিশনের বার্তা স্পষ্ট-নিয়মভঙ্গ করলে কোনও রেয়াত নেই, ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতাই প্রধান লক্ষ্য।





