কলকাতা, ২ আগস্ট: ভোটে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিন ছিলেন সম্পূর্ণ আড়ালে। রাজনৈতিক কর্মসূচি তো দূরের কথা, প্রকাশ্যেও প্রায় দেখা যায়নি তাঁকে। সেই প্রাক্তন মন্ত্রী ডা. শশী পাঁজার আচমকা কালীঘাটে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বারে উপস্থিতি ঘিরে শনিবার থেকেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ির অদূরেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিক। সেখানেই গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শশী পাঁজা। দুই চিকিৎসক-রাজনীতিকের এই বৈঠককে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা সামনে এলেও শশীর দাবি, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে হওয়া সাক্ষাৎ। যদিও সেই ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক মহলের কৌতূহল কমেনি।
বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর কার্যত জনজীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন শশী। এমনও গুঞ্জন ছিল, তিনি অন্ধ্রপ্রদেশে নিজের মাতৃভূমিতে চলে গিয়েছেন। কিন্তু আগস্টের শুরুতেই তাঁর এই প্রকাশ্য উপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তিনি কি আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলে ভাঙনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহিলা নেতৃত্বের পুরনো সমীকরণ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। একসময় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী ও শশী পাঁজাকে দলীয় মহিলা ব্রিগেডের অন্যতম মুখ হিসেবে দেখা হতো। ইতিমধ্যেই কাকলি এনসিপিআই-এ যোগ দিয়ে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কৃষ্ণা চক্রবর্তী যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে।
এই পরিস্থিতিতে কাকলির সঙ্গে শশী পাঁজার সাক্ষাৎ নিছক সৌজন্য, নাকি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এখনও পর্যন্ত দলবদল বা নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে শশী পাঁজার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি। ফলে কালীঘাটের এই বৈঠকের প্রকৃত তাৎপর্য জানতে আপাতত অপেক্ষাই রাজনৈতিক মহলের একমাত্র ভরসা।





