নন্দীগ্রাম, ২৫ সেপ্টেম্বরঃ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে আইনি টানাপড়েন আরও তীব্র হল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে। পুরনো মামলায় গ্রেফতারির পর একের পর এক আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই নতুন মোড়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, তা চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। শুক্রবার সেই আবেদনের শুনানিতে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ নিয়েই প্রশ্ন তুলল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন-পর্বের পুরনো মামলাকে ঘিরে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় মিলনকে। তাঁর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, জমায়েত, লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য পরোয়ানার কথাও আদালতে জানিয়েছিল রাজ্য।
এর পর আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মিলন। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন, অথচ নতুন মামলায় তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে তাঁর অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না; তাঁকে ওই মামলায় নতুন করে গ্রেফতারও দেখানো যাবে না।
কিন্তু সেই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। রাজ্যের বক্তব্য, আগের সরকারের সময়ে প্রত্যাহার করা কয়েকটি মামলা হাই কোর্টের নির্দেশে ফের সক্রিয় হয়েছে। সেই সূত্রেই মিলনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের।
এখন প্রশ্ন, ভোটের মুখে জেলবন্দি প্রার্থীর ক্ষেত্রে আইনি লড়াই কোন দিকে গড়ায়। এক দিকে পুরনো মামলায় পুলিশের পদক্ষেপ, অন্য দিকে নির্বাচনে লড়ার অধিকার নিয়ে আদালতের দরজায় কংগ্রেস। ৬ অক্টোবর ভোটের আগে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক উত্তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আদালতের টানাপড়েনও।





