সিকিম, ২৯ অক্টোবরঃ পাহাড়ের গায়ে সাদা চাদর। চারপাশে বরফের আস্তরণ, মেঘের আনাগোনা আর হিমেল হাওয়া। শীতের আগমনী বার্তা যেন আরও স্পষ্ট করে দিল পূর্ব সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল। বৃহস্পতিবার সকালে নতুন করে তুষারপাতের জেরে বরফে ঢাকল নাথু লা, কুপুপ এবং গ্নাথাং উপত্যকা। পাহাড়ের পরিচিত রুক্ষ প্রান্তর মুহূর্তে বদলে গেল সাদা বরফের মনোরম দৃশ্যে। আর এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবহেই গ্নাথাংয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী সিকিম হিমালয়ান ইয়াক ফেস্টিভ্যাল।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে তুষারপাতের খবর সামনে এসেছে। নাথু লার বরফে ঢাকা পথ, কুপুপের পাহাড়ি প্রান্তর এবং গ্নাথাং উপত্যকার সাদা হয়ে যাওয়া ভূদৃশ্য সব মিলিয়ে পূর্ব সিকিমে তৈরি হয়েছে শীতের অন্য রকম পরিবেশ। পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এই অঞ্চল বরাবরই আকর্ষণীয়। তুষারপাত সেই আকর্ষণে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
তবে এ বারের গ্নাথাংয়ের আকর্ষণ শুধু তুষারপাতেই সীমাবদ্ধ নয়। উপত্যকায় চলছে তিন দিনব্যাপী সিকিম হিমালয়ান ইয়াক ফেস্টিভ্যাল। হিমালয়ের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের জীবনযাত্রায় ইয়াকের গুরুত্ব অপরিসীম। পশুপালন, স্থানীয় অর্থনীতি এবং পাহাড়ি সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই প্রাণী।
ইয়াক পালনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরতেই এই উৎসবের আয়োজন। পাহাড়ি মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের নিবিড় সম্পর্ক এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রীতিনীতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয় এমন উৎসব।
তারই মধ্যে তুষারপাত গ্নাথাংয়ের উৎসবের পরিবেশে এনে দিয়েছে বাড়তি রোমাঞ্চ। বরফে ঢাকা পাহাড়ের পটভূমিতে ইয়াক উৎসবের আয়োজন যেন প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন।
শীতের শুরুতেই সিকিমের এই তুষারপাত পাহাড়প্রেমীদের আকর্ষণ বাড়াতে পারে। তবে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে পারে। তুষারপাতের কারণে কোথাও যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা জেনে তবেই নাথু লা, কুপুপ বা গ্নাথাং যাওয়ার পরিকল্পনা করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, বরফের সাদা চাদর আর ইয়াক উৎসবের আবহে পূর্ব সিকিমে প্রকৃতি ও সংস্কৃতি মিলেমিশে তৈরি করেছে এক বিশেষ পরিবেশ। হিমালয়ের কোলে শীতের এই আগমন পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরও একবার নতুন করে সামনে আনল।





